৩ লক্ষ গাছ লাগিয়ে পদ্মশ্রী! সম্মান নিতে খালি পায়েই মঞ্চে বৃদ্ধা, কুর্নিশ জানাচ্ছে দেশ

৩ লক্ষ গাছ লাগিয়ে পদ্মশ্রী! সম্মান নিতে খালি পায়েই মঞ্চে বৃদ্ধা, কুর্নিশ জানাচ্ছে দেশ
৩ লক্ষ গাছ লাগিয়ে পদ্মশ্রী! সম্মান নিতে খালি পায়েই মঞ্চে বৃদ্ধা, কুর্নিশ জানাচ্ছে দেশ

কোনও পুঁথিগত শিক্ষা নেই। কিন্তু তিনি যা করে দেখিয়েছেন, সমাজের বহু তথাকথিত শিক্ষিত মানুষও তা করে দেখাতে পারেন না। পরিবেশকে সবুজ ও সুন্দর করে তোলার জন্য এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষের বেশি গাছ লাগিয়ে নজির গড়েছেন তিনি। পুরস্কার স্বরূপ এ বছরের পদ্মশ্রী প্রাপকের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে তাঁর নাম। আর এই সম্মান নিতে গিয়েই আলাদা করে নজরও কাড়লেন। তাঁকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল সারা দেশ।

৩ লক্ষ গাছ লাগিয়ে পদ্মশ্রী! সম্মান নিতে খালি পায়েই মঞ্চে বৃদ্ধা, কুর্নিশ জানাচ্ছে দেশ
৩ লক্ষ গাছ লাগিয়ে পদ্মশ্রী! সম্মান নিতে খালি পায়েই মঞ্চে বৃদ্ধা, কুর্নিশ জানাচ্ছে দেশ

তিনি হলেন কর্ণাটকের এক সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা। নাম তুলসী গৌরা। কর্ণাটকের হোনালী গ্রামের বাসিন্দাকে ডাকা হয় ‘বনের বিশ্বকোষ’ নামে। এছাড়াও তিনি পরিচিত ‘বনের দেবী’ নামেও। এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষের বেশি সবুজায়নের পিছনে রয়েছে তাঁর হাত। পরিবেশকে সবুজ করে তুলতে গাছ পোঁতাই তাঁর কাজ। আর এই কাজের সম্মান স্বরূপই পেলেন পদ্মশ্রী। আর দেশের সেরাতম এই সম্মানের অধিকারী হয়ে মঞ্চে তিনি উঠলেন খালি পায়ে। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাত থেকে পদ্মশ্রী সম্মান তুলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর উদ্দেশে তাঁর করজোড়ে নমস্কার করার দৃশ্যই যেন অনুষ্ঠানের সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকল।

এদিন পদ্মশ্রী সম্মান নিতে কর্ণাটকের ওই বৃদ্ধা গেলেন স্থানীয় ট্র‍্যাডিশনাল পোশাকে। খালি পায়েই উঠলেন মঞ্চে। রাষ্ট্রপতির হাত থেকে তাঁর পুরস্কার নেওয়ার সেই দৃশ্য দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নত করল দেশের অগণিত মানুষ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও মুগ্ধ এই সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে দেখে। তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়ার মুহূর্তের ছবি শেয়ারও করলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, কর্ণাটকের বাসিন্দা হাল্কাকি উপজাতির ওই বৃদ্ধা গত ৬ দশক ধরে সবুজায়নকেই ‘পাখির চোখ’ করেছেন। ছয় দশক ধরে পুঁতেছেন কম পক্ষে ৩০ হাজারের বেশি গাছের চারা। সন্তানস্নেহে সেগুলিকে লালন পালন করে বড় করেছেন তিনি। গাছ লাগানো আর তার যত্ন যেন তাঁর জীবনেরই অঙ্গ। ধীরে ধীরে বেড়েছে তাঁর গাছগাছালি সম্পর্কে জ্ঞানও। তবে প্রচারের আলোয় আসেননি কোনওদিন। যদিও তাঁর কাজের ছটা ছড়িয়ে পড়েছিল চারিদিকে। তার-ই স্বীকৃতি স্বরূপ হাতে উঠল পদ্মশ্রী সম্মান।