প্রেমিকার সাহচর্যে আজ আইপিএস অফিসার এই 12th ফেল টেম্পো চালক

Image source Google

বংনিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: ‘তুমি সাথে থাকলে সারা জগত জিতে নেব’, প্রথম প্রথম প্রেমে এমন ডায়লগ সব প্রেমিকই দেন তার প্রেমিকাকে। সিনেমায় সত্যিও হয় সেসব প্রমিস। কিন্তু বাস্তবে? আসল দুনিয়ায় এমন ঘটনার নজির একদম নেই তা এরপর থেকে আর বলা যাবে না। বাস্তবের এই কাহিনীর নায়ক মধ্যপ্রদেশের মনোজ শর্মা। চরম দারিদ্রের সাথে লড়াই করে আজ তিনি আইপিএস অফিসার। তিনি জানিয়েছেন এই কঠিনযুদ্ধে সফলতার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার প্রেমিকার।

মধ্যপ্রদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে মনোজ ছোট থেকেই পেটের দুমুঠো ভাত জোগাতে বিভিন্ন রকম কাজ করতেন। কখনো আটাকলে, কখনো বা বড়লোক বাড়ির কুকুরের দেখভাল এই ছিলো ছোট্ট মনোজের রুটি রোজগারের পন্থা। এমন পেটের টানে পড়াশোনা একটা বিলাসিতা। কোনো রকমে টেনেটুনে দশম শ্রেণী একাদশ শ্রেণী পাশ করে দ্বাদশ শ্রেণীতে ব্যর্থ হন তিনি। আর পড়াশোনা করার ইচ্ছাও ছিলোনা তার। কিন্তু জীবনের মোড় ঘুরে যায় একটি ছোট্ট ঘটনায়।

তখন দিনমাইনের টেম্পোচালক তিনি। দশটাকা না থাকায় বেআইনি ভাবে টেম্পো ঢুকিয়ে দেন একজায়গায়। পুলিশে তার টেম্পো অধিগ্রহণ করে নেওয়ায়, টেম্পো ফেরত আনতে সেখানকার এসডিও সাহেবের হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করেন মনোজ। সেই ঘটনার পরই দেশের প্রশাসনিক কাজে যোগদান করার ইচ্ছা হয় তার। চলে আসেন দিল্লী, শুরু হয় পড়াশোনা। পড়াশোনার খরচ চালাতে দিনমজুরও খেটেছেন তিনি। এত পরিশ্রম করেও সফলতা তার আসছিলোনা।

ছোটোবেলার দুর্বল পড়াশোনা এবং কমজোরি ইংরেজি তাকে তার স্বপ্নের থেকে অনেক দূরে ঠেলে দিচ্ছিলো। তখন মনোজের জীবনে আসেন শ্রদ্ধা। মনোজের প্রেমিকা শ্রদ্ধা নিজেও একজন সিভিল সার্ভিস অফিসার। তার প্রেরণাতেই সব বাধা অতিক্রম করে শেষ সুযোগে আইপিএস অফিসার হন তিনি। এক ইন্টারভিউয়ে মনোজ জানিয়েছেন শ্রদ্ধাকে জীবনে পাওয়ার ইচ্ছাই সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলো তার। তিনি শ্রদ্ধাকে বলেন, ‘ হ্যাঁ বলে দাও একবার, দুনিয়া পাল্টে দেব।’ বাস্তবে করলেনও তাই। মনোজের কাহিনী একটি বইয়ে প্রকাশ করেছেন তার বন্ধু, অনুরাগ পাঠক। বইয়ের নাম ‘ হারে ওহি, যো লড়ে নেহী।’ ইউপিএসসি পরীক্ষায় বারবার অকৃতকার্য হয়ে যারা নৈরাশ্যের অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছেন, মনোজের গল্প তাদের লড়াই করার শক্তি ফিরিয়ে দেবে।

আরও পড়ুনঃ  স্কুলে নিয়মিত ক্লাস করছে হনুমান 'লক্ষ্মী'

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.