নির্বাক ভালোবাসা! বধির পাত্রর সঙ্গেই বিবাহে আবদ্ধ হলেন মূক-বধির পাত্রী, খুশির ঝড় দুই পরিবারে

নির্বাক ভালোবাসা! বধির পাত্রর সঙ্গেই বিবাহে আবদ্ধ হলেন মূক-বধির পাত্রী, খুশির ঝড় দুই পরিবারে / নিজস্ব চিত্র
নির্বাক ভালোবাসা! বধির পাত্রর সঙ্গেই বিবাহে আবদ্ধ হলেন মূক-বধির পাত্রী, খুশির ঝড় দুই পরিবারে / নিজস্ব চিত্র

কথায় বলে, ভালোবাসা অন্ধ! অর্থাৎ ভালোবাসা চোখে দেখে না। কিন্তু আমাদের এই কাহিনীর পাত্র-পাত্রী যদিও অন্ধ নয়। তবে তাঁরা দুজনেই বধির। কানে শুনতে পান না। তবে নিয়তির অমোঘ টানে দু’জনেই মিলিত হয়েছেন একই সঙ্গে। সদ্য বিয়েও হয়েছে তাঁদের। শুধুমাত্র মনের টানেই দুজনে একইসঙ্গে শুরু করেছেন পথ চলা।

নদীয়ার শান্তিপুরের গোবিন্দপুর অঞ্চলের দক্ষিণ কায়স্থ পাড়ার বাসিন্দা সুপদ সরকার। তাঁর বড় মেয়ে প্রিয়াঙ্কা সরকার জন্ম থেকেই বধির। ছেলেবেলা থেকেই কলকাতায় একটি রামকৃষ্ণ মিশনে আবাসিক পড়াশোনা করছেন সামনের বছর মাধ্যমিক পরীক্ষাও দিতে চলেছেন। এর মধ্যেই প্রিয়াঙ্কার বিয়ের জন্য সুপাত্রের সন্ধান করছিলেন বাবা। তবে কানে শুনতে না পাওয়ার দরুন পাত্রের খোঁজ পেতে বেশ বেগই পেতে হচ্ছিল।

এরপরই সুপদ সরকারের সঙ্গে আলাপ হয় পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ের মন্মথ অধিকারীর। পুত্র মন্টু অধিকারীও বধির। তারই জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিলেন বাবা। তা শুনে রাজিও হলেন সুপদ সরকার। আগামীতে মেয়ের পড়াশোনা বজায় থাকবে এই মর্মে বিয়ের প্রস্তাব মাথা পেতে নিলেন তিনি। পাত্রের দাদু জানান, একজন বধিরের মন বুঝতে পারে আরেকজন বধিরই। তাই মন্টুর জীবনসঙ্গিনী হিসেবে প্রিয়াঙ্কাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।

বিয়ে ঠিক হওয়ার আগের এক মাস অবশ্য বেশ কয়েকবার হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলের মাধ্যমে আকার-ইঙ্গিতে নিজেদের মধ্যে কথা বলেন পাত্র-পাত্রী। এরপরই বিয়েতে রাজি হন দু’জনে। শুরু হয় বিয়ের তোড়জোড়। অবশেষে হিন্দু শাস্ত্র মতেই বিবাহ সম্পন্ন হয় মন্টু-প্রিয়াঙ্কার। বিবাহের দায়িত্বে থাকা পুরোহিত জানান, অতীতে কখনও এ ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হয়নি। তবে মন্ত্র উচ্চারণের বহিঃপ্রকাশ না ঘটলেও, মনে মনে উচ্চারণ করেছে পাত্রপাত্রী। আনন্দে ঘাটতি পড়েনি দুই পরিবারেও। বিবাহের পরই খুশির ঝড় বয়ে যায় আত্মীয়স্বজনের মধ্যে। নবদম্পতিকে আশীর্বাদ ও শুভকামনাতেও ভরিয়ে তোলেন তাঁরা।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.