করোনা অতিমারিতে নাইট কার্ফু ভেঙে বিয়েবাড়ি! হানা দিয়ে বানচাল করলেন জেলাশাসক, রইল ভিডিও

করোনা অতিমারিতে নাইট কার্ফু ভেঙে বিয়েবাড়ি! হানা দিয়ে বানচাল করলেন জেলাশাসক, রইল ভিডিও
করোনা অতিমারিতে নাইট কার্ফু ভেঙে বিয়েবাড়ি! হানা দিয়ে বানচাল করলেন জেলাশাসক, রইল ভিডিও

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশজুড়ে করোনা ক্রমশ ভয়ঙ্কর থেকে আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে। চারিদিকে হাহাকার, কোথায় হাসপাতালে বেডের জন্য, কোথাও অক্সিজেনের জন্য, কোথাও আবার প্রিয়জনকে হারানোর। ইতিমধ্যেই করোনা আক্রান্ত বহু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে না পেরে এবং অনেকেরই অক্সিজেন না পেয়ে মৃত্যু হয়েছে। শ্মশানে শুধুই সারি সারি চিতা জ্বলছে, বিরাম নেই। করোনা সুনামিতে মৃত্যু মিছিল মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

একদিনে যখন এমন একটা ভয়াবহ অবস্থা তখন এই দেশেই, এমন অতিমারি পরিস্থিতিতে আইন অমান্য করে, বিয়েবাড়ি অনুষ্ঠান উপলক্ষে ভাড়া দেওয়া এবং জনসমাগমের জন্য আগামী এক বছরের জন্য বন্ধ করা হল পশ্চিম ত্রিপুরার ২ টি ভবন। সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে ওই দুটি ভবন বন্ধ করার নির্দেশ দেন জেলাশাসক।

পশ্চিম ত্রিপুরার ওই জেলাশাসকের নাম শৈলেশ যাদব। তিনি খবর পান, সোমবার রাতে এই অতিমারি পরিস্থিতির মধ্যেও মাণিক্য কোর্ট এবং গোলাপবাগান নামে ২ টি ভবনে বড় মাপের বিয়েবাড়ির আয়োজন করা হয়েছে। প্রচুর জনসমাগমও হয়েছে সেখানে।

এরপর খবর পাওয়া মাত্রই, রাতেই জেলাশাসক পুলিশ নিয়ে হানা দেন ওই ২ বিয়েবাড়িতে। বিয়েবাড়িতে হাজির নিমন্ত্রিত অতিথি থেকে শুরু করে, বর-কনে সকলকেই তিনি রীতিমতো ধমকে তখনই সেখান থেকে বার করে দেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, কেউ তর্ক করতে এলে, তাঁকে তৎক্ষণাৎ করোনার নিয়মবিধি ভাঙার অভিযোগে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছেন। পাশাপাশি ওই এলাকার থানার ওসিকেও সাসপেন্ড করার কথাও তিনি বলেন।

এদিকে এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখান দেখা গেছে, কেন নৈশ কার্ফু না মেনে বিয়েবাড়ি আয়োজন করা হয়েছে? সেই প্রশ্নে তিনি রীতিমতো ধমকাচ্ছেন সকলকে। বিয়েবাড়ির এক সদস্য তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, অনুমতিপত্র রয়েছে তাঁদের কাছে। উল্টে তিনি ওই ব্যক্তি-সহ আরও অনেককে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয়, পশ্চিম আগরতলা থানার ওসি-কে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন জেলাশাসক।

বিয়েবাড়িতে উপস্থিত একজন অনুমতিপত্র দেখাতে এলে, জেলাশাসক ওই কাগজ ছিঁড়ে ফেলেন। তিনি বলেন, অনুমতিটা বিয়ের জন্য কিন্তু রাত ১০টার পর বিয়ের অনুষ্ঠান করার জন্য নয়। অপর বিয়েবাড়িতে গিয়েও আমন্ত্রিত সহ বাড়ির লোকজনকে বের করে দিতে দেখা যায়। হঠাৎ বিয়েবাড়িতে পুলিশ দেখে, হকচকিয়ে যান অনেকেই। বিয়েবাড়িতে বরের ঘাড় ধাক্কাও দেন শৈলেশ কুমার যাদব।

জেলাশাসক বলেন, ‘বিয়েবাড়িতে যাঁরা উপস্থিত আছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই শিক্ষিত। শিক্ষিত মানুষদের থেকে এটা আশা করা যায় না। এরপর সংক্রমণ বাড়লে, এরা সরকারের দিকে আঙুল তুলবে, বলবে সরকার কিছু করছে না।’ এদিকে, আগরতলার জেলাশাসকের অভিযান ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

 

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.