জলের তোড়ে ঘাটালে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল দোতলা বাড়ি, দেখুন ভিডিও

জলের তোড়ে ঘাটালে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল দোতলা বাড়ি, দেখুন ভিডিও
জলের তোড়ে ঘাটালে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল দোতলা বাড়ি, দেখুন ভিডিও

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ নিম্নচাপের জেরে টানা ভারী বৃষ্টি এর সঙ্গে জলাধার থেকে জল ছাড়া, এই দুয়ের কারণে রাজ্যের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জেলার একাধিক এলাকা জলমগ্ন। ঘাটালও এর ব্যতিক্রম নয়। জলের তলায় ঘাটাল থানা, রাস্তা, ঘরবাড়ি, মাঠ-ঘাট। ঘাটালকে ঘিরে থাকা নদীগুলির জলস্তর যেভাবে বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে বলে আশঙ্কা করছে জেলা প্রশাসন৷

এদিকে, ঘাটালের মনসুখায় এলাকায় একটি দোতলা বাড়ি ভেঙে পড়েছে৷ আবার ঘাটাল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জলে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে চার বছরের একটি শিশু৷ শীলাবতী, কাঁসাই, ঝুমির মতো নদীগুলির জলস্তর বেড়ে গিয়ে ইতিমধ্যেই ঘাটাল পুরসভার ১৩টি ওয়ার্ড প্লাবিত। ইতিমধ্যেই বহু গ্রামে জল ঢুকেছে।

এদিন জলের তোড়ে ঘাটালেরই মনসুখা এলাকায় একটি দোতলা বাড়ি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। এই বাড়ির মালিকের নাম রতন মণ্ডল। ঝুমি নদীর জল উপচে দোকান লাগোয়া রাস্তায় ঢুকে পড়ে। তখনই জলের তোড়ে ভেঙে পড়ে ওই পাকা বাড়িটি। তবে, ওই বাড়িটিতে কেউ না থাকার কারণে কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। আবার আজই সকালে ঘাটাল পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গম্ভীরনগরে জলে ডুবে এক ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকেই জল বাড়ছে। ঘাটালের গ্রামীণ ও শহর এলাকাগুলিতে। দাসপুর এক ব্লকের শিলাবতী নদীর ভাঙা বাঁধ দিয়ে জল ঢুকে প্লাবিত একাধিক গ্রাম। ঘাটাল ব্লকের ১২টির মধ্যে ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা প্লাবিত। ইতিমধ্যেই ঘাটাল চন্দ্রকোণা রাজ্য সড়কেও জল উঠতে শুরু করেছে৷

ঘাটালের মনসুকা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুমি নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে। মাইথন ও মুকুটমণিপুর জলাধার থেকে জল ছাড়ায় ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিভিন্ন রাস্তাঘাট জলমগ্ন হওয়ার কারণে ঘাটাল পুরসভার তরফে খেয়া পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘাটাল মহকুমা প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। হু হু করে জল বাড়ায় ঘাটাল মহাকুমার বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

উল্লেখ্য, আসানসোল, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা জলের তলায়। এদিকে, জলস্তর বেড়েছে দামোদর এবং অজয় নদে। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর, পান্ডবেশ্বর, অন্ডাল, ইলামবাজার, মেজিয়া ও পুরুলিয়ার বিভিন্ন অংশ ডুবে গিয়েছে। জল ঢুকেছে হুগলির খানাকুল, আরামবাগের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও।

এদিকে, আজই বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গে DVC-র ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি হলে আমাদের সামাল দিতে হচ্ছে। বিহারে বৃষ্টি হলে আমাদের সামাল দিতে হচ্ছে।’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘মাঝরাতে যদি জল ছাড়ে, তাহলে ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষ মরে যাবে। এটা পাপ, অন্যায়।’

এই বন্যা পরিস্থিতির জন্য ডিভিসিকেই দায়ী করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু ওদের প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। আসানসোলেও এত বৃষ্টি আগে হয়নি কখনও। পরশু রাত ৩টের সময়ে ঝাড়খণ্ড রাজ্য থেকে আমাদের না জানিয়ে আসানসোলে জল ছেড়়ে দেয়। ফলে আসানসোল, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া পুরো ডুবে গিয়েছে। কালকে আবার ডিভিসি ১ লক্ষ কিউসেকের উপর জল ছেড়েছে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন যে, ‘ওরা যদি ওদের বাঁধ ও ক্যানালগুলি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে, তাহলে অনেক জল ধরতে পারে। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে না। ড্রেজিং করে না। মাঞ্চেত, মাইথন, তেনুঘাটে ২ লক্ষ কিউসেক মেট্রিক টন আরও ধরতে পারে। ওদের খেসারত আমাদের দিতে হচ্ছে। এটা অন্যায়’।