মেলেনি শববাহী যান, অনুপায় হয়ে, গাড়ির ছাদে বাবার দেহ বেঁধে শ্মশানে নিয়ে গেল ছেলে!

মেলেনি শববাহী যান, অনুপায় হয়ে, গাড়ির ছাদে বাবার দেহ বেঁধে শ্মশানে নিয়ে গেল ছেলে!
মেলেনি শববাহী যান, অনুপায় হয়ে, গাড়ির ছাদে বাবার দেহ বেঁধে শ্মশানে নিয়ে গেল ছেলে!

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ কী সাংঘাতিক পরিস্থিতি! শববাহী যান বা অ্যাম্বুলেন্সের জন্য বারবার আর্জি জানিয়েও কোনও ব্যবস্থা না হওয়ায়, অনুপায় হয়ে, অবশেষে বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে, নিজের গাড়ির ছাদে বাবার দেহ বেঁধে, তা শ্মশানে নিয়ে গেলেন ছেলে! বর্তমান করোনা পরিস্থিতির জেরে এমন দৃশ্যও দেখছে দেশবাসী।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার উত্তরপ্রদেশের আগ্রায়। বাবা মারা গিয়েছেন হাসপাতালে। করোনা হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। তাই বারবার হাসপাতালে বলার সত্ত্বেও মেলেনি কোনও শববাহী গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স। শেষে বাধ্য হয়েই বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে গাড়ির ছাদে বাবার মৃতদেহ বেঁধে শ্মশানে নিয়ে যান অসহায় ছেলে! চার চাকা গাড়ির মাথায় বাঁশের মাচা সমেত মৃতদেহকে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শিউরে উঠেছে মানুষ। দেশে চারিদিকে শুধুই হাহাকার। শ্মশানে সারি সারি চিতা। মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। ক্রমশ পরিস্থিতি আরও ভয়ানক করে তুলছে করোনা দেশজুড়ে। করোনা অতিমারিতে কাঁপছে গোটা দেশ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল দেশ। সেই ধাক্কার মধ্যেই দেশজুড়ে অক্সিজেনের হাহাকার। হাসপাতালে বেডের অভাব, প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই, ভ্যাকসিন নেই। শুধুই নেই আর হাহাকার। যার জেরে মৃত্যু মিছিলের সংখ্যাটাও বেড়েই চলেছে ক্রমশ। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার মুখে।

প্রিয়জনকে বাঁচাতে একটু অক্সিজেনের জন্য মানুষের লম্বা লাইন। দোরে দোরে ঘুরতে হচ্ছে। নানা জায়গায় যোগাযোগ, কোথাও যদি একটু ব্যবস্থা করা যায়। কিন্তু কিছুঁই হচ্ছে না। অক্সিজেনের অভাবে, কাতরাতে কাতরাতে একসময় হার মানতে হচ্ছে অনেককেই। হাসপাতালের চিত্রটাও একই। অসহায়ের মতো হাতজোর করে আবেদন করছেন চিকিৎসকরাও। তাঁরাও নিরুপায়, অসহায়।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী শুনিয়েছে উত্তরপ্রদেশের সরকারকে। হাসপাতালের বেড বা অক্সিজেনের কোনও অভাব নেই বলেই উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে। এদিকে এই পরিস্থিতিতে সোমবার আগ্রায় এই করুণ দৃশ্য দেখা গেল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আগ্রায় করোনা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। শেষ ৯ দিনে আগ্রায় ৩৫ জন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৬০০ করে নতুন আক্রান্ত হচ্ছেন। সমাজসেবী যোগেশ মালহোত্রা জানিয়েছেন, আগ্রায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এবং করোনা-মৃতের সংখ্যা-দুই-ই দ্রুত গতিতে বাড়ছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.