করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই মাথাচাড়া দিচ্ছে ডেঙ্গু! চিন্তা বাড়াচ্ছে রাজ্যের এই জেলা

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই মাথাচাড়া দিচ্ছে ডেঙ্গু! চিন্তা বাড়াচ্ছে রাজ্যের এই জেলা
করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই মাথাচাড়া দিচ্ছে ডেঙ্গু! চিন্তা বাড়াচ্ছে রাজ্যের এই জেলা / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনার পাশাপাশি এবার চিন্তায় ফেলেছে ডেঙ্গুও। রাজ্যে মাথাচাড়া দিচ্ছে ডেঙ্গু। যা স্বাস্থ্য দফতরের চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে ক্রমশ। এই মুহূর্তে রাজ্যে করোনার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগণা জেলার করোনা সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এরই মধ্যেই এসে পড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। রাজ্যের করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই উত্তর ২৪ পরগণা জেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। এমনিতেই রাজ্যের মধ্যে কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগণা জেলাই এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে সবথেকে বেশি। তার মধ্যে আবার ডেঙ্গুর উপদ্রব, যা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগে স্বাস্থ্য দফতর।

জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই এই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচশোর গণ্ডি অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক হলেও, তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে বলেই দাবি করেছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে ডেঙ্গু মোকাবিলায় যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সূত্রের খবর, জেলার শহর এলাকার থেকে গ্রামীণ এলাকায় এই মুহূর্তে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। যা কিছুটা হলেও, স্বস্তি দিয়েছে প্রশাসনের  কর্তাদের।

উল্লেখ্য, রাজ্যে দুর্গাপুজো মিটতেই রাজ্যে নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। কিছু কিছু জেলায় আবার করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে দেখা দিচ্ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এইসব জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগণা জেলাও। বেশ কয়েক বছর আগেও জেলার গ্রামীণ এলাকা দেগঙ্গায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দু’শো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। এরপরই ডেঙ্গু মোকাবিলায় তৎপর হয় জেলা প্রশাসন। আগেভাগেই পঞ্চায়েত, পৌরসভাকে সঙ্গে নিয়ে ডেঙ্গু রোধে কোমর বেঁধে নেমে পড়ে প্রশাসনের কর্তারা। যার ফলও মিলতে শুরু করেছিল হাতেনাতে।

গত তিন-চার বছর ধরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলেও, এবছর আবার ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে বলে অভিযোগ। যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রশাসনের কপালে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গতবছর এই সময় গ্রামীণ এলাকায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১৪, এবার সংখ্যাটা ৯৭। জেলার পৌরসভা এলাকায় গতবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭১৯। সেখানে এখনও অবধি আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৩। গ্রামীণ এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন রাজারহাট ব্লকে। সেখানে এখনও অবধি ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬। এরপরই রয়েছে হাবড়া এক নম্বর ব্লক এবং দেগঙ্গা ব্লক। শহর এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে বিধাননগর মিউনিসিপ্যালিটি এলাকা। সেখানে ইতিমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে। এরপরই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বরানগর পৌরসভা এলাকা। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬। কামারহাটি পৌরসভা এলাকায় ২৮ এবং দক্ষিণ দমদম পৌরসভা এলাকায় ২০ জন এখনও অবধি ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। অন্যান্য পৌরসভা এলাকায় সংখ্যাটা তুলনামূলক ভাবে কম বলেই জানা গিয়েছে প্রশাসন সূত্রে।

অন্যদিকে, এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রশাসন যাবতীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন জেলাপরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ জ্যোতি চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি নিয়মিত প্রচার চালানো হচ্ছে প্রশাসনের তরফে। মশা নিধনে একদিকে ছোট ছোট ডোবাগুলিতে যেমন গাপ্পি মাছ ছাড়া হচ্ছে।অন্যদিকে কোথাও টায়ার টিউবে জল জমে থাকলে সেখানে পোড়া মোবিল ও কেরোসিন ঢেলে মশার লার্ভা মারার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ তাঁর কথায়, ‘মশার লার্ভা না জন্মালে ডেঙ্গুর প্রকোপও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই বিষয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করছেন আশা ও প্রাণী সম্পদের কর্মীরা। ডেঙ্গু নির্মল করায় আমাদের মূল উদ্দেশ্য।আশা করি সেই কাজে সফল হতে পারব আমরা।’