দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, রাতে চা বিক্রি যুবকের

Image Source- Google

বিশেষ সংবাদঃ কোনো কাজই ছোট নয়। এমন কথা বাচ্চা বেলা থেকে শুনলেও কাজে করে দেখানোর লোক খুব কম দেখা যায়। এমনই একজন ব্যতিক্রমী নাজমূল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “হিউম্যানিটি” বিভাগের ছাত্র সে, সাবজেক্ট “দর্শন”।নিজের পড়াশোনার খরচ আর পরিবারের দায়িত্ব একই সাথে তুলে নিয়েছেন নিজের কাঁধে।

রোজগারের উপায় হিসাবে বেছে নিয়েছেন চা বিক্রি। প্রতিদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সামনে রোজ সন্ধ্যে ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চা বিক্রি করেন নাজমুল। আয় হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা রোজ।
তুমুল অনটনের মুখে, টিউশানি পড়িয়ে নিজের পড়াশোনা চালাতে চেষ্টা করেছিলেন নাজমূল। আর্টসের ছাত্র, এই বাহানায় অনেক কম সাম্মানিক পেতেন তিনি। পেতেন না সময়ে ছুটিও। তাই নিজে স্বাধীন কিছু করতে চেয়েছিলেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। প্রথমে মোবাইল রিচার্জের দোকান ও পরে চা এর ব্যবসা করছেন এই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছাত্র।

প্রথমে নাজমূলের এই চা বিক্রিকে অনেকেই ভালো চোখে দেখেন নি। কারো সাহায্য নিতে বলেন অনেকেই। কিন্তু নাজমূল কারো সাহায্য প্রার্থী না হয়ে নিজেই নিজের ও পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন। উনি দৃঢ প্রতিজ্ঞ, ” না, যাই হয়ে যাক পড়াশোনা শেষ করতেই হবে”। এমন মানসিকতাকে কুর্ণিশ।

নদীর বন্যা ভাসিয়ে দিয়েছে বসতভিটা: শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাটের এক গ্রামে নাজমুল হোসেনদের বাড়ি। ২০১২ সালে নদীর ভাঙনে তলিয়ে গেছে বাস্তু। ফলত নাজমুলের বাবা সাত্তার হাওলাদার ও মা নাজমা বেগম এসে দাঁড়ায় গাজীপুরে। চার সন্তান নিয়ে বিপদে পড়েছিলেন নাজমুলের মা-বাবা। সংসারে অভাব-অনটন মাত্রাছাড়া, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পড়াশোনা ছিলো বিলাসিতা। নাজমুল’ই পরিবারের বড় ছেলে। দায়িত্ব তার কাঁধে বেশী। তবুও হাল ছাড়েনি নাজমুল। সংসারের দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে চা বিক্রির মাধ্যমে পড়াশোনাকেও বজায় রাখছে নাজমুল। তিন মাস ধরে চা বিক্রি করছেন নাজমুল। দিনে ক্লাস করেন। সন্ধ্যার পর ভ্যান নিয়ে বেরোন। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চা বিক্রি করেন। আয় হয় কখনো ২০০ আবার কোনদিন ৩০০। পরীক্ষা থাকলে বিক্রি বন্ধ রাখে। এইভাবে চলছে নাজমুলের স্টাডি এন্ড স্ট্রাগল।।

আরও পড়ুনঃ  এবার সাইকেল নিয়ে পেট্রোলিং করছে পাকিস্তানের পুলিশ, দেখুন সেই ভিডিও

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.