বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

বাজারে সব কিছুর দাম আগুন! তবু মাত্র ১ টাকাতেই চা বিক্রি করে চলেছেন বাংলার এই বধূ

০১:৪২ পিএম, জানুয়ারি ১৭, ২০২২

বাজারে সব কিছুর দাম আগুন! তবু মাত্র ১ টাকাতেই চা বিক্রি করে চলেছেন বাংলার এই বধূ

দিনের পর দিন ক্রমশই চড়ছে মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ। গ্যাস বা পেট্রোপণ্যের দামের সঙ্গেই বাড়ছে দুধ, চিন সহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য৷ বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে ১ টাকায় এখন আর প্রায় কিছুই জোটে না। কিন্তু এই সময়ে দাঁড়িয়েও মাত্র ১ টাকাতেই যদি পাওয়া যায় এক কাপ চা? হ্যাঁ, এমনটাই সত্যি! কল্যাণীর চা বিক্রেতা ঊষারাণী জয়ধর এই বাজারেও মাত্র এক টাকাতেই ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন চায়ের কাপ!

বর্তমানে বাজারে ৫ থেকে ৬ টাকা কাপের কমে চা পাওয়া যায় না বললেই চলে। কিন্তু তার মাঝেই ব্যতিক্রমী ঊষারাণী। বিগত ২২ বছর ধরে এমন স্বল্প মূল্যেই এক কাপ চা বিক্রি করছেন তিনি। ২০০০ সালে তিনি শুরু করেন নিজের ব্যবসা। সে সময় মাত্র ৪০ পয়সায় এক কাপ চা তিনি বিক্রি করতেন ঊষারাণী। তবে সম্প্রতি চা, দুধ, জ্বালানির দাম কয়েকগুণ দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে তিনি দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও ২২ বছরে সেই দাম বেড়েছে মাত্র ৬০ পয়সা।

কল্যাণীর বিদ্যাসাগর মোড়ে একটি ছোট্ট দোকান রয়েছে ঊষারাণীর। সেখানেই প্রতিদিন চা বিক্রি করেন তিনি। লিকার হোক অথবা দুধ চা, তাঁর বানানো এক কাপ চায়ের জন্য দিতে হয় মাত্র এক টাকা। আর এত অল্প দামে চা বিক্রি করার কারণে তার দোকানে প্রতিদিন সকাল থেকেই শুরু হয়ে যায় স্থানীয় লোকজনের আনাগোনা। জমতে থাকে ভীড়। আর যাঁরা প্রথমবার আসেন তাঁরা চায়ের দাম শুনেই হতবাক হয়ে যান। বারবার ঊষারাণীকে জিজ্ঞাসা করতে থাকেন দাম।

ঊষারানী দেবী জানিয়েছেন, প্রতিদিন তিনি প্রায় ৫০০ কাপের বেশি চা বিক্রি করে থাকেন৷ কিন্তু মাত্র এক টাকায় এক কাপ চা বিক্রি করে কীভাবে সমস্ত খরচ পোষান তিনি? এর উত্তরে এই চা বিক্রেতা বধূ জানিয়েছেন, এই ভাবে দু’বেলা চা বিক্রি করে তাঁর পুষিয়ে যায়। অন্য দোকানদাররা এবং খরিদ্দাররা মাঝে মাঝে দাম বাড়ানোর কথা বললেও তিনি দাম বাড়াননি। তাঁর খরচ নিয়ে তেমন সমস্যা হয় না। বরং আরও বেশি ক্রেতা আসেন। তাঁদের সুবিধার কথা ভেবেই দাম বাড়াননি তিনি।