চোঙ লাগিয়ে চিৎকার করে, ‘কেউ আছেন?’ প্রশ্নের মধ্যে দিয়ে এখনও অবরুদ্ধ টানেলে চলছে খোঁজ!

চোঙ লাগিয়ে চিৎকার করে, 'কেউ আছেন?' প্রশ্নের মধ্যে দিয়ে এখনও অবরুদ্ধ টানেলে চলছে খোঁজ!
চোঙ লাগিয়ে চিৎকার করে, 'কেউ আছেন?' প্রশ্নের মধ্যে দিয়ে এখনও অবরুদ্ধ টানেলে চলছে খোঁজ! /ছবি সৌজন্যে- Twitter Post By @satyaprad1

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয় গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে এই বিপর্যয় আগামী দিনের জন্য এক বড় সতর্কবার্তাও নিঃসন্দেহে। উত্তরাখণ্ডের প্রাকৃতিক প্রলয়ের পর, ধুয়ে মুছে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে তপোবন বাঁধ। সঙ্গে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তপোবন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের।

রবিবার উত্তরাখণ্ডের চমৌলি জেলায় যোশীমঠের কাছে নন্দাদেবী তুষারধসে আচমকা অলকানন্দা এবং ধৌলিগঙ্গা নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়ে বান আসে৷ যার জেরে কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তপোবনের কাছে গড়ে ওঠা একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প৷

জলের তোড়ে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া রাস্তা এখন কর্দমাক্ত। নদীর গতিপথ এখন আরও প্রশস্ত। অন্যদিকে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় আড়াই কিলোমিটারের টানেল এখন কাদা আর পাথরে বন্ধ হয়ে পড়েছে। এই বিপর্যয়ের কারণে ৫ টি ব্রিজ ভেঙ্গে পড়েছে। পাশাপাশি এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে ১৩ টি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্রের খবর এখনও ১৭০ জন মানুষ নিখোঁজ৷ বাকিদেরও মৃত্যু হয়েছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রশাসনের তরফ থেকে।

তাও চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না উদ্ধারকারী দল। যদিও এখনও কেউ জীবিত থেকে থাকেন, তাই চলছে তার খোঁজ। টানেলে আরও কেউ আটকে থাকতে পারে বলেই মনে করছেন উদ্ধারকারী দল। তাই চোঙ লাগিয়ে চিৎকার করে, ‘কেউ আছেন?’ বলে খোঁজ করছেন তাঁরা। আশা যদি কোনও উত্তর আসে। চোঙ ব্যবহার করে, তা কাদা ভেদ করে ভিতরে ঢুকিয়ে চিৎকার করে জানার চেষ্টা করছেন সেখানে উপস্থিত উদ্ধারকারী দল।

কিন্তু তাঁদের প্রশ্নের উত্তরে কেউ সাড়া দেয়নি। ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে জেসিবি মেশিনও। এদিকে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত জানিয়েছেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও যাঁদের পরিবারের সদস্য এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে্র কারণে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া হবে ৪ লক্ষ টাকা।

জানা গিয়েছে, সেনাবাহিনী, জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। এয়ারলিফ্টের ব্যবস্থার জন্য সেনার তিনটি হেলিকপ্টার কাজ করছে সেখানে৷ দুটি এমআই ১৭এস (Mi-17s) ও একটি ধ্রুব (ALH Dhruv) ওঠা-নামা করছে৷ প্রয়োজনে আরও হেলিকপ্টার কাজে লাগাবে ভারতীয় সেনা তেমনটাই জানানো হয়েছে৷ বন্যা বিধ্বস্ত এলাকায় দেশের ৬০০ সেনা উদ্ধারকার্যে রয়েছেন৷ ঘটনাস্থলে Sniper Dog এনেও খোঁজ চলছে।

অন্যদিকে এই ঘটনার পর, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। যদি কোনও সাহাজ্যের প্রয়োজন হয়, তাহলে তা করতে তাঁরা প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।