রাহুল গান্ধীকেও লখিমপুর-খেরিতে যাওয়ার অনুমতি দিল না যোগী আদিত্যনাথের সরকার

রাহুল গান্ধীকেও লখিমপুর-খেরিতে যাওয়ার অনুমতি দিল না যোগী আদিত্যনাথের সরকার
রাহুল গান্ধীকেও লখিমপুর-খেরিতে যাওয়ার অনুমতি দিল না যোগী আদিত্যনাথের সরকার

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ  উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর-খেরিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর ছেলের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ জন কৃষকের মৃত্যু হয় রবিবার। এরপরেই এই ঘটনাকে ঘিরে রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে লখিমপুর খেরি। অশান্তির মাঝে পড়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এরপরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা লখিমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু প্রায় সকলকেই আটকে দেয় উত্তরপ্রদেশ সরকার। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। এর মধ্যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে প্রায় ৩০ ঘন্টার বেশি সময় সীতাপুরে আটক করে রাখার পর ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে, তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। কংগ্রেস নেতা বাঘেলকে বিমানবন্দরেই আটকে দেওয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় সপা নেতা অখিলেশ যাদবকেও।

এদিকে এই পরিস্থিতিতে প্রিয়াঙ্কার পর রাহুল গান্ধীও লখিমপুরে যাওয়ার অনুমতি পেলেন না। সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি দিয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে লখিমপুরে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়। মৃত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার জন্যই লখিমপুর যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে, উত্তরপ্রদেশ সরকার অনুমতি দেয়নি। যোগী সরকারের বক্তব্য়, শান্তি বজায় রাখতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাহুল গান্ধী-সহ ৫ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দলের খেরিতে যাওয়ার কথা ছিল। যদিও যোগী আদিত্যনাথের সরকার যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। উত্তরপ্রদেশ সরকার কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে লখনউতে জারি হওয়া ১৪৪ ধারার পরিপ্রেক্ষিতে লখিমপুর খেরি জেলায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সূত্রের খবর, বুধবার অর্থাৎ আজ সকাল ১০টায় সাংবাদিক বৈঠক করার কথা রাহুল গান্ধীর। তাঁর সঙ্গে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চন্নি, ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল ও রাজ্যসভার সাংসদ কেসি বেণুগোপাল।

মঙ্গলবার ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আগেই পুলিশ। ভোর ৪.৩০টের সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় SHO-র রিপোর্টের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, তাঁকে পুলিশ রিমান্ডে রাখতে হবে। সীতাপুর অতিথিশালাকেই অস্থায়ী জেল বানিয়ে সেখানে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে রাখা হয়েছে।

রবিবারের ঘটনার পর থেকেই লখিমপুর খেরিতে কোনও রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বিরোধী পক্ষের কোনও নেতাকেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না৷ অবশ্য গতকাল তৃণমূল সাংসদরাও দু’টি দলে ভাগ হয়ে কোনওক্রমে পুলিশি বাধা অতিক্রম করে নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন৷