উত্তরপ্রদেশের এক গ্রামে ২০ জনকে ভুলবশত দেওয়া হয়েছে কোভ্যাক্সিন ও কোভিশিল্ডের মিশ্র ডোজ! চিন্তায় গ্রামবাসী

উত্তরপ্রদেশের এক গ্রামে ২০ জনকে ভুলবশত দেওয়া হয়েছে কোভ্যাক্সিন ও কোভিশিল্ডের মিশ্র ডোজ! চিন্তায় গ্রামবাসী
উত্তরপ্রদেশের এক গ্রামে ২০ জনকে ভুলবশত দেওয়া হয়েছে কোভ্যাক্সিন ও কোভিশিল্ডের মিশ্র ডোজ! চিন্তায় গ্রামবাসী / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দুটি ডোজে মিলল দুই আলাদা আলাদা ভ্যাকসিন। অর্থাৎ টিকাকরণের প্রথম ডোজটি কোভিশিল্ড দিয়ে আর পরের ডোজটি আর এক অন্য ভ্যাকসিন কোভ্যাক্সিন দিয়ে। তাহলেই ভাবুন কী কাণ্ড! এমনই কাণ্ড ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের এক গ্রামে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক তুঙ্গে। নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত সিদ্ধার্থনগর জেলার ওই গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিরুদ্ধে ভুলবশত কমপক্ষে ২০ জন গ্রামবাসীকে দুই আলাদা আলাদা সংস্থার করোনা টিকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এই ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামের মানুষ। তবে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, কারও শরীরেই এখনও পর্যন্ত এই ভুলের জেরে কোনও ধরনের সমস্যা দেখা দেয়নি।

ওই প্রত্যন্ত গ্রামের এক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে করোনা ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। এরপর ফের ১৪ মে দ্বিতীয় ডোজের জন্য দেওয়া হয় কোভ্যাক্সিন, কোভিশিল্ড না দিয়ে। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে যে, কীভাবে এমন ঘটনা বা ভুল হল?

এই প্রশ্নের উত্তরে সিদ্ধার্থনগরের মুখ্য মেডিক্যাল অফিসার সন্দীপ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র অসাবধানতা এবং উদাসীনতার কারণেই এই ঘটনা। তাঁর কথায়, ‘কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের মিশ্র ককটেলের ডোজ দেওয়ার কোনও নির্দেশ নেই। যা হয়েছে তা অসতর্কতার জন্যই। আমরা ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি, রিপোর্টও পেয়েছি। যারা এই ঘটনার জন্য দোষী তাঁদের কাছে এর ব্যাখ্যা চেয়েছি। আমরা সম্ভাব্য যা পদক্ষেপ করার করব।’

উল্লেখ্য, দুটি আলাদা সংস্থার ডোজ নিলে, কী হতে পারে, তা এখনও গবেষণার বিষয়। তবে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তরফ থেকে এই ঘটনার পর দাবি করা হয়েছে যে, কোনও গ্রামবাসীরই কোনও ধরনের শারীরিক সমস্যা হয়নি বা কোনোরকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও হয়নি।

যদিও ভুক্তভোগী এক গ্রামবাসী এই কথাকে সমর্থন করছেন না। ওই গ্রামবাসীর স্পষ্ট কথা, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার পর, কাউকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি এপ্রিলের ১ তারিখ কোভিশিল্ডের ডোজ নিয়েছিলেন। পরে ১৪ মে তাঁকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। কেউ একবার চেক করেনি। এর জেরে কোভিশিল্ডের জায়গায় কোভ্যাক্সিন দেওয়া হয়। ব্যাপারটা খুবই ভয়ের। তিনি এও জানিয়েছেন যে, তিনি খুবই ভয়ে আছেন এই ঘটনার পর। কেউই নাকি তাঁদের কাছে খোঁজ করতে আসেনি।