কার্ফুর সময় চা খেতে গিয়ে ভাইরাল! এবার নিজের চায়ের দোকান খুলেই আগামীর স্বপ্ন বুনছেন সেই ‘চা কাকু’

কার্ফুর সময় চা খেতে গিয়ে ভাইরাল! এবার নিজের চায়ের দোকান খুলেই আগামীর স্বপ্ন বুনছেন সেই 'চা কাকু'
কার্ফুর সময় চা খেতে গিয়ে ভাইরাল! এবার নিজের চায়ের দোকান খুলেই আগামীর স্বপ্ন বুনছেন সেই 'চা কাকু'

গতবছরের মার্চ মাস। দেশে তখন সদ্য শিকড় গেঁড়ে বসছে করোনা ভাইরাস। ঠিক সেই সময় কোভিড রুখতে দেশজুড়ে জনতা কার্ফুর ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই নিষেধাজ্ঞা না মেনেই পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকানে চা খেতে দেখা গিয়েছিল এক কাকুকে। তাঁকে প্রশ্ন করা হলে সরল ভাবে উত্তর দিয়েছিলেন, “আমরা কি চা খাব না, খাব না আমরা চা?” ব্যস! মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল সেই ভিডিও। আর নেটিজেনদের কাছে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন সেই ব্যক্তি। তাঁর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘চা কাকু’।

অবশ্য কার্ফুর নিয়ম ভেঙে চা খেতে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সেসময় ওই চা কাকুর ওপর চড়াও হন অধিকাংশ নেটিজেন। পরে তাঁর পরিচয় সামনে এলে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন নেটিজেনরা। জানা যায়, ওই চা কাকুর আসল নাম মৃদুল দেব। পেশায় দিনমজুর। অভাবের সংসার তাই লকডাউনের মধ্যেও পেটের দায়ে কাজে বেরোতে হয়েছিল তাঁকে। সেসময়ই চায়ের দোকানে চা খেতে গিয়ে ভাইরাল হয়ে যান তিনি।

কার্ফুর সময় চা খেতে গিয়ে ভাইরাল! এবার নিজের চায়ের দোকান খুলেই আগামীর স্বপ্ন বুনছেন সেই 'চা কাকু'
কার্ফুর সময় চা খেতে গিয়ে ভাইরাল! এবার নিজের চায়ের দোকান খুলেই আগামীর স্বপ্ন বুনছেন সেই ‘চা কাকু’

তবে সেই ‘চা কাকু’ই বর্তমানে অন্য এক অবতারে। দক্ষিণ কলকাতার বিজয়গড় অঞ্চলে আস্ত এক চায়ের দোকান খুলে বসেছেন তিনি। গতকাল ছিল সেই দোকান উদ্বোধন। ঠিকানা- ১১/৫/সি, কলকাতা-০৩২। ছোট্ট চায়ের দোকান হলে কী হবে! রকমারি পান মশলা থেকে শুরু করে চিপস বা বিস্কুটের প্যাকেট কী নেই সেখানে। সঙ্গে কাকুর হাতে বানানো চা তো থাকছেই।

নিজের এই দোকান খোলার বিষয়ে নেটমাধ্যমে গতকাল নিজেই জানালেন মৃদুলবাবু। তারপরই নেটিজেনদের শুভেচ্ছা বার্তায় ভেসে যেতে শুরু করে তাঁর ফেসবুক পোস্ট। ফেসবুকে সকলের উদ্দেশ্যে আমন্ত্রণ জানিয়ে ‘চা কাকু’ লিখেছেন, “আমার নতুন দোকান। ছোট করে শুরু করলাম। যারা যারা আমার দোকানের চা খেতে চাও চলে এসো।” নেটিজেনরাও সেই আমন্ত্রণ খুশি মনেই গ্রহণ করেছেন। ‘চা কাকু’কে জানিয়েছেন তাঁর চায়ের দোকানে গিয়ে তাঁরা অবশ্যই আড্ডা জমাবেন। চায়ের দোকানকে ঘিরেই আপাতত আগামীর স্বপ্ন বুনছেন মৃদুলবাবু। তাঁর জন্য রইল অশেষ শুভেচ্ছা।