শনিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২২

দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়ুয়ার পা ধরে স্কুলের বারান্দা থেকে ঝোলানোর অভিযোগ! গ্রেপ্তার উত্তরপ্রদেশের শিক্ষক

০৩:৪৯ পিএম, অক্টোবর ২৯, ২০২১

দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়ুয়ার পা ধরে স্কুলের বারান্দা থেকে ঝোলানোর অভিযোগ! গ্রেপ্তার উত্তরপ্রদেশের শিক্ষক

ফের একবার খবরের শিরোনামে যোগী রাজ্য উত্তরপ্রদেশ। দ্বিতীয় শ্রেণীর এক পড়ুয়াকে শাস্তি দিতে তার পা ধরে স্কুলের বারান্দায় ঝুলিয়ে রেখেছিলেন যোগী রাজ্যের মির্জাপুরের এক শিক্ষক। সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ ভাইরালও হয়েছিল সেই ছবি। এবার ওই ঘটনায় নড়ে চড়ে বসল মির্জাপুর জেলা প্রশাসন। ঘটনার জেরে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে বলে মির্জাপুর পুলিশ সূত্রে খবর।

জানা গিয়েছে, মির্জাপুরের অহরাউরা এলাকার সদভাবনা শিক্ষণ সংস্থান জুনিয়র হাই স্কুলে ঘটে এই ঘটনাটি। বৃহস্পতিবার, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোজ বিশ্বকর্মা দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র সোনু যাদবকে শাস্তি দিতে এমন কাণ্ড ঘটান। তবে শাস্তির কারণ খুবই সামান্য। খাবার খাওয়ার সময় সোনু নিজের সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করছিল। শুধুমাত্র এই দোষেই সোনুর উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ওই প্রধান শিক্ষক। এরপর শিশুটির এক পা ধরে টেনে নিয়ে এসে দোতলা বারান্দা থেকে তাকে নীচে ঝুলিয়ে রাখেন মনোজ।

ঘটনার সময় স্কুলের অন্যান্য ছাত্ররাও সেখানে উপস্থিত ছিল। এমন শাস্তির চোটে শিশুটি অত্যন্ত ভয় পেয়ে চিৎকার করে বারবার নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে থাকে। কিন্তু তাতেও তাকে রেহাই দেননি ওই শিক্ষক। পা ধরে বেশ অনেকক্ষণ ঝুলিয়ে রাখেন শিশুটিকে। সেই দৃশ্যই ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। শিশুটির সঙ্গে শিক্ষকের এই ধরনের আচরণে নেটজনতাও চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় উগড়ে দেন ক্ষোভ।

https://twitter.com/mirzapurpolice/status/1453770212310863872?s=20

এরপরই টনক নড়ে প্রশাসনের। মির্জাপুরের জেলা শাসক প্রবীণ কুমার লক্সর শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিককে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। তারপরই গ্রেপ্তার হন ওই প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে, শিশুটির বাবা রঞ্জিত যাদব আবার সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, প্রধান শিক্ষকের ওই আচরণ ভুল হলেও তা তিনি ভালোবাসা থেকে করেছেন। তাতে তাঁর ছেলের কোনও সমস্যা হয়নি। তাঁর কথায়, "উনি যা করেছেন তা ভুল ছিল কিন্তু গুরুজি (শিক্ষক) ভালোবাসার কারণে করেছেন। সেজন্য আমাদের কোনো সমস্যা নেই।" অভিযুক্ত শিক্ষকটিরও দাবি, "শিশুটি খুবই দুষ্টু। তার বাবা তাকে সংশোধন করতে বলেছিলেন। তাই এই শাস্তি দিয়েছি।"