সোমবার, ০৮ আগস্ট, ২০২২

বয়স মাত্র ৭! সংসারের হাল ধরতে ‍‍`ডেলিভারি বয়‍‍` হয়ে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে এই খুদে

মৌসুমী মোদক

প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২২, ১০:০০ পিএম | আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২২, ১০:৫১ পিএম

বয়স মাত্র ৭! সংসারের হাল ধরতে ‍‍`ডেলিভারি বয়‍‍` হয়ে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে এই খুদে
বয়স মাত্র ৭! সংসারের হাল ধরতে ‍‍`ডেলিভারি বয়‍‍` হয়ে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে এই খুদে

বয়স মাত্র ৭। আর এই বয়সেই বাড়ি বাড়ি ঘুরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে একরত্তি ছেলেটি। যে বয়সে পিঠে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা তার, সেই বয়সে বাড়ি বাড়ি খাবার দেওয়ার কাজ বেছে নিতে হয়েছে তাকে। তবে এই ফাঁকেই স্কুলেও যায় সে, পড়াশোনাও করে। তবু সংসারের হাল ধরতে খুদে বয়সেই কাঁধে এসে পড়েছে এক বড় দায়িত্ব।

বাবা এক দুর্ঘটনায় জখম হয়ে আপাতত ঘরবন্দী। এই পরিস্থিতিতে রোজগারের টানে মাত্র ৭ বছর বয়সেই বাবার কাজ নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে সে৷ সঙ্গী বলতে শুধু একটা সাইকেল! রোজ সকালে স্কুলে যায়, বিকেল অবধি পড়াশুনা করে। এরপর সন্ধ্যে ছ’টা থেকে জোম্যাটোতে ডেলিভারি বয়ের কাজ করে এই খুদে। যা চলে প্রায় রাত ১১টা পর্যন্ত।

একরত্তি ছেলেটির এই কাহিনী প্রকাশ্যে আনেন রাহুল মিত্তল নামের এক ব্যক্তি। আর সেই কাহিনী পড়ে চোখ ভিজে গিয়েছে নেটিজেনদের। শিশুটির নাম না জানা গেলেও তার চেষ্টাকে বাহবা জানিয়েছেন অনেকেই। তার কাহিনী সকলের মন ছুঁয়ে নিয়েছে। 

শিশুটির এই কঠিন পরিস্থিতিতে অনেকে আবার তার দিকে সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। সংসারের জন্য তার এমন দায়িত্ব নেওয়া দেখে, ছেলেটিকে প্রশংসাতেও ভরিয়েছেন অনেকে। তবে অনেকে আবার ‍‍`শিশুশ্রম‍‍`-এর প্রসঙ্গও তুলেছেন।

এদিকে খুদের কাহিনী নজরে এসেছে জোম্যাটোরও (Zomato)। তারপরই ওই ছেলেটির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফুড ডেলিভারি সংস্থাটি। সংস্থাটি  তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাহুলের কাছে ছেলেটির বাবার বিস্তারিত তথ্য তাদেরকে জানানোর জন্য অনুরোধও করে। 

পরে জোম্যাটোর এক মুখপাত্র জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে আনার জন্য আমরা ইন্টারনেট সম্প্রদায়ের কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা জোম্যাটো ফিউচার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিশুটির শিক্ষায় সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছি। আমাদের সক্রিয় ডেলিভারি পার্টনারদের যে দুর্ঘটনাজনিত সহায়তা প্রদান করি তা ছেলেটির পরিবারকে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে মানবিক কারণে ব্যতিক্রম হয়ে এই পরিস্থিতিতে যতটা সম্ভব সহায়তার হাত বাড়ানো যায় তা-ই করা হচ্ছে।”