শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২

‍‍`ওকে মেরে ফেলো!‍‍` ফের চলন্ত ট্রেনের বাইরে মোবাইল চোরকে ঝুলিয়ে ১০ কিমি নিয়ে গেলেন যাত্রীরা

মৌসুমী মোদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২, ১১:১৩ পিএম | আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২, ১১:১৩ পিএম

‍‍`ওকে মেরে ফেলো!‍‍` ফের চলন্ত ট্রেনের বাইরে মোবাইল চোরকে ঝুলিয়ে ১০ কিমি নিয়ে গেলেন যাত্রীরা
‍‍`ওকে মেরে ফেলো!‍‍` ফের চলন্ত ট্রেনের বাইরে মোবাইল চোরকে ঝুলিয়ে ১০ কিমি নিয়ে গেলেন যাত্রীরা

ট্রেনের জানলা দিয়ে হাত গলিয়ে মোবাইল চুরি করার চেষ্টা করেছিলেন এক যুবক। কিন্তু সফল হলেন না। চুরির আগেই ধরা পড়ে গেলেন যাত্রীদের কাছে। তারপর? অভিযুক্ত যুবককে শাস্তি দিতে জানলার এপার থেকে তাঁর হাত টেনে ধরে রাখলেন যাত্রীরা। ওইভাবেই ঝুলতে ঝুলতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ গেলেন সেই যুবক। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটে বিহারের বেগুসরাইয়ের কাছে। যা নিয়ে নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিতর্ক। এবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল ভাগলপুরে।

জানলা দিয়ে হাত গলিয়ে যাত্রীর মোবাইল টেনে নিয়ে পালাতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে যান এক যুবক। এরপর তাঁকে শাস্তি দিতে শক্ত করে তাঁর হাতটা ধরে রাখেন যাত্রীরা ৷ ওই অবস্থাতেই ছেড়ে দেয় ট্রেন ৷ কিন্তু যুবককে আর ছাড়েননি যাত্রীরা। ১০০ কিলোমিটার বেগে ছুটছে ট্রেন। রাতের অন্ধকার। তার মাঝেই একটি কামরার বাইরে ওই ব্যক্তিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেল। 

কখনও রেললাইনের পাথরে পা ছেঁচড়ে যাচ্ছে, কখনও বিদ্যুতের খুঁটি থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। আর চিৎকার করে বলছিলেন, “আমাকে মারবেন না।” ট্রেনের ভিতর থেকে তখন যাত্রীদের মধ্যে সমস্বরে আওয়াজ উঠল, “ওকে মেরে ফেলো। চুরি করার মজা বুঝবে।” বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে ভাগলপুরের সাহেবগঞ্জ শাখার মমলেখা স্টেশনে। 

তখন রাতের অন্ধকার নেমে এসেছে। ট্রেন মমলেখা স্টেশনে পৌঁছয়। একটু অপেক্ষা করার পর ট্রেন যখন স্টেশন ছাড়ছিল, সেই সময়ই একটি কামরার দরজার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এক যাত্রীর মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এক ব্যক্তি। কিন্তু যাত্রী তাঁর হাত ধরে ফেলেন। তার পর তাঁকে টেনে ট্রেনের ভিতর ঢুকিয়ে নেন।

মোবাইল চুরির বিষয়টি কামরার মধ্যে চাউর হতেই যাত্রীরা ক্ষেপে ওঠেন। এর পরই ওই চোরকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাতেও যখন তাঁদের রাগ মেটেনি, তখন চোরের হাত বেঁধে দরজার বাইরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এক চুল এ দিক ও দিক হলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত ছিল। সেই ভাবেই চোরকে ট্রেনে বাইরে ঝুলিয়ে ১০ কিলোমিটার নিয়ে যান যাত্রীরা। তার পর পুলিশের হাতে তুলে দেন।