রবিবার, ০২ অক্টোবর, ২০২২

হাত গলিয়ে মোবাইল চুরির চেষ্টা! টানা ১৫ কিমি চলন্ত ট্রেনের বাইরে ঝুলিয়ে ‍‍`সাজা‍‍` দিল যাত্রীরা

মৌসুমী মোদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২, ০২:০১ পিএম | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২, ০২:৩৩ পিএম

হাত গলিয়ে মোবাইল চুরির চেষ্টা! টানা ১৫ কিমি চলন্ত ট্রেনের বাইরে ঝুলিয়ে ‍‍`সাজা‍‍` দিল যাত্রীরা
হাত গলিয়ে মোবাইল চুরির চেষ্টা! টানা ১৫ কিমি চলন্ত ট্রেনের বাইরে ঝুলিয়ে ‍‍`সাজা‍‍` দিল যাত্রীরা

বেগুসরাই থেকে খাগারিয়া যাচ্ছিল একটি ট্রেন। আর সেই ট্রেনের জানলা দিয়ে হাত গলিয়ে মোবাইল চুরি করার চেষ্টা করছিলেন এক যুবক। কিন্তু সফল হলেন না। চুরির আগেই ধরা পড়ে গেলেন যাত্রীদের কাছে। তারপর? অভিযুক্ত যুবককে শাস্তি দিতে জানলার এপার থেকে তাঁর হাত টেনে ধরে রাখলেন যাত্রীরা। ওইভাবেই ঝুলতে ঝুলতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ গেলেন সেই যুবক।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাতে বিহারের বেগুসরাইয়ের কাছে। সাহেবপুর কামাল স্টেশনে জানলা দিয়ে হাত গলিয়ে যাত্রীর মোবাইল টেনে নিয়ে পালাতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে যান ওই যুবক। এরপর তাঁকে শাস্তি দিতে শক্ত করে তাঁর হাতটা ধরে রাখেন যাত্রীরা ৷ ওই অবস্থাতেই ছেড়ে দেয় ট্রেন ৷ কিন্তু যুবককে আর ছাড়েননি যাত্রীরা। যাত্রীরা চাইলে চেন টেনে ট্রেনটি থামাতে পারতেন ৷ তবে ছিনতাইবাজ যুবককে শাস্তি দেওয়ার জন্য তাঁরা তা করেননি।

এই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, শুরুতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আর্জি জানাতে থাকেন ছিনতাইবাজ। পরে ট্রেন চালু হওয়ার পরই যুবকটি অনুরোধ করেন, তাঁর হাত যেন যাত্রীরা না ছাড়েন। কারণ ছেড়ে দিলেই পড়ে গিয়ে অবরাধিত মৃত্যু, বা ঘটতে পারে বড় কোনও দুর্ঘটনা। এই আশঙ্কায় যাত্রীরাও অবশ্য হাত ছাড়েননি যুবকের। আর ওই অবস্থাতেই সাহেবপুর কামাল স্টেশন থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে খাগারিয়া পর্যন্ত ঝুলতে ঝুলতে যান যুবক। মৃত্যুকে চোখের সামনে প্রত্যক্ষ করেন তিনি ৷

জানা গিয়েছে, ট্রেন খাগাড়িয়া স্টেশনে এলে অভিযুক্ত ওই যুবককে জিআরপি-র হাতে তুলে দেন যাত্রীরা। জিআরপি সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম পঙ্কজ কুমার। তিনি সাহেবপুর কামাল স্টেশন এলাকার বাসিন্দা ৷ আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। যদিও এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর যাত্রীদের এহেন নির্দয় মানসিকতার সমালোচনাও করেছেন অনেকে। তাঁদের মতে, অভিযুক্তকে আইনের হাতেই তুলে দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে যাত্রীরা যা করেছেন তা অন্যায়। এতে যুবকটি মারাও যেতে পারত। অনেকে আবার বিহারের প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছেন। প্রশ্ন করেছেন, এমন অমানবিক কাণ্ড কীভাবে রেল পুলিশের নজরে আসেনি! ফলে ঘটনাটি নিয়ে যে বেশ ভালো রকমই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে তা বলাই বাহুল্য।

প্রসঙ্গত, বিহারে ট্রেন থেকে এ ধরনের ঘটনা যদিও নতুন নয়। চলন্ত ট্রেনের জানলা দিয়ে মোবাইল, সোনার হার টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। তবে এবার যে কাণ্ডটি ঘটেছে তা রীতিমতো ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মতোই। অন্তত ভিডিওটি দেখে নেটিজেনরা তা-ই বলাবলি করছেন।