সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২

দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ হারের পরই বড় সিদ্ধান্ত কোহলির! ছাড়লেন টেস্ট অধিনায়কত্বও

০৯:২৯ পিএম, জানুয়ারি ১৫, ২০২২

দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ হারের পরই বড় সিদ্ধান্ত কোহলির! ছাড়লেন টেস্ট অধিনায়কত্বও

টি-২০ বিশ্বকাপের পরই ছেড়েছিলেন কুড়ি ওভারের ক্রিকেটের ক্যাপ্টেন্সি। এরপর তাঁকে ওয়ানডে অধিনায়কের পদ থেকেও সরিয়ে দেয় বিসিসিআই। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে যা নিয়ে চূড়ান্ত নাটকও চলে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে। এবার প্রোটিয়াদের কাছে টেস্ট সিরিজে নাস্তানাবুদ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টিম ইন্ডিয়ার টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন বিরাট কোহলি। শনিবার ট্যুইটারে পোস্ট করে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিসিসিআই-এর তরফে ট্যুইট করে বিরাটের অধিনায়কত্ব ছা়ড়ার বিষয়টিতে শিলমোহর দেওয়া হয়। বিদায় বেলায় কোহলি ধন্যবাদ জানিয়েছেন ধোনি এবং শাস্ত্রীকে।

এদিন ট্যুইটারে নিজের এই বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে কোহলি লেখেন, ‘গত সাত বছর ধরে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম, একটানা ধৈর্য দেখিয়ে দলকে একটা সঠিক দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে এই কাজ করেছি এবং কিছু বাদ রাখিনি। কোনও একটা স্তরে এসে সবকিছুই একসময় থেমে যায় এবং টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে, আমার কাছেও এটাই থেমে যাওয়ার সময়। এই যাত্রাপথে অনেক উত্থান এবং কিছু পতন হয়েছে। কিন্তু কখনওই চেষ্টা বা বিশ্বাসের খামতি থাকেনি। যাই করি না কেন, বরাবর নিজের ১২০ শতাংশ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যদি সেটা না পারি, তা হলে আমি জানি এটা সঠিক কাজ নয়। দলের প্রতি অসৎ হতে পারব না।‘

এরপরই প্রাক্তন কোভ রবি শাস্ত্রী ও প্রাক্তন অধিনায়ক ধোনির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান কোহলি। শাস্ত্রীর প্রশংসায় বিরাট লেখেন, '‘রবি শাস্ত্রী এবং বাকি সাপোর্ট স্টাফদের প্রশংসা প্রাপ্য। ভারতীয় দল যে ভাবে গাড়ির মতো ধারাবাহিক ভাবে উপরে উঠে এসেছে, সেই গাড়ির ইঞ্জিন ছিলেন ওঁরা। আমার দর্শনকে সত্যি করার জন্য আপানাদের ভূমিকা অসামান্য।‘ শেষে ধোনির প্রতি কোহলির বার্তা, ‘এমএস ধোনিকে সব থেকে বেশি ধন্যবাদ আমাকে অধিনায়ক হিসেবে যোগ্য মনে করার জন্য। ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, এই বিশ্বাস ধোনির ছিল।‘ এর পাশাপাশি দলের প্রতিটি সতীর্থকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন কোহলি।

https://twitter.com/imVkohli/status/1482340422987169794?t=uaslgYJCb4vhuCxoQNyiCA&s=19

উল্লেখ্য, অধিনায়ক হিসাবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আইসিসি খেতাব না জেতার নজির না থাকলেও টেস্টে কিন্তু পরিসংখ্যানগত দিক থেকে বিরাটের আশেপাশেও অন্য কোনও ভারতীয় অধিনায়ক নেই। দেশের হয়ে ৬৮টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে ৪০টি ম্যাচে জয় এসেছে তাঁর নেতৃত্বে। এর মধ্যে ঘরের মাঠে ২৪টি ও বাইরের মাঠে ১৬টি টেস্ট জয়৷ অধিনায়ক হিসাবে বাকি ১১টি ম্যাচ ড্র এবং ১৭টি ম্যাচ হারলেও টেস্ট ম্যাচ জয়ের বিচারে বিরাটের থেকে অনেক পিছনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে রয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি (২৭টি জয়) ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (২১টি জয়)।

https://twitter.com/BCCI/status/1482342717288239105?t=BLsCKSI0fiHcFm883yZYmA&s=19

শুধু ভারতীয় হিসাবেই নয়, টেস্ট ইতিহাসে গোটা বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক বিরাট। বিরাটের থেকে অধিক টেস্ট ম্যাচ জিতেছেন একমাত্র রিকি পন্টিং (৪৮) ও গ্রেম স্মিথ (৫৩)। কোহলিই প্রথম এশিয়ান অধিনায়ক যিনি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জেতেন। টেস্ট অধিনায়ক হিসাবে বিরাটের এই রেকর্ড হয়তো আগামীতে আরও বাড়ত। কিন্তু তার আগেই জল ঢেলে দিলেন তিনি স্বয়ং। যদিও এর পিছনে তাঁর সাম্প্রতিক খারাপ ফর্ম এবং বিসিসিআই-এর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরকেও এড়াতে পারছেন না ক্রিকেট অনুরাগীরা।