নিষ্পত্তি হল না ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার! পরবর্তী শুনানি কবে?

নিষ্পত্তি হল না ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার! পরবর্তী শুনানি কবে?
নিষ্পত্তি হল না ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার! পরবর্তী শুনানি কবে?

ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্যের জবাব শুনল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের শুনানিতে রাজ্যের হয় সওয়াল করেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। এরপরেই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয় ২৮ জুলাই।

বিভিন্ন জায়গার ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনার তদন্ত করে কলকাতা হাইকোর্ট কে একটি ৫০ পাতার রিপোর্ট জমা দিয়েছে মানবাধিকার কমিশন। সেখানে দেখা গিয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার হয়েছেন শাসক বিরোধীদল। তবে মানবাধিকার কমিশনের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিল রাজ্য। এদিন রাজ্যের সেই জবাবই শোনে হাইকোর্ট।

রাজ্যের তরফের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতে বলেন, ‘একাধিক রিপোর্টে অসঙ্গতি রয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টে। এতে উল্লেখ রয়েছে ভোটের আগের হিংসার ঘটনার কথা। গত ১৩ ই জুলাই প্রকাশ করা হয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট। তাতে বিধানসভা নির্বাচনের আগেকার বেশ কিছু ঘটনার উল্লেখ রয়েছে।” আইনজীবীর সাফ বক্তব্য, এই রিপোর্ট উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তৈরি করা।

এদিকে এই সওয়ালের পাল্টা জবাব দিয়ে মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি বলেন ” যারা মানবাধিকার কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তাদেরকে এখন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা অভিযোগকারীদের হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, বাংলায় গুজরাট হিংসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে”। মহেশ জেঠমালানির প্রশ্ন, “যেই পুলিশ আক্রান্তদের ভয় দেখাচ্ছে, তারা তদন্ত করবে কীভাবে?”

প্রসঙ্গত, ভোট মিটে যাওয়ার পর রাজ্যে একাধিক জেলা থেকে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। এরপর মানবাধিকার কমিশনের ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, এই সমস্ত জায়গায় শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা অত্যাচার চালাচ্ছেন। অনেকের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে, এমনকি আশঙ্কায় বাড়িছাড়া হয়েছেন বহু মানুষ। এই ভাবে ভোট পরবর্তী হিংসা চলতে থাকলে তা রাজ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করবে বলে জানানো হয়েছিল এই রিপোর্টে।

এরপর জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয় ঘরছাড়াদের বাড়ি ফেরানোর জন্য। তবে মানবাধিকার কমিশনের এই রিপোর্টের অভিযোগ প্রথম থেকেই অস্বীকার করে এসেছে রাজ্যের শাসক দল। তারপরেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দোল রাজ্য সরকারকে সাত দিনের সময় দিয়েছিল জবাব দেওয়ার জন্য। সেই মতই আজ ২২ জুলাই শেষ হচ্ছে সেই সময়সীমা। তাই আজকেই কলকাতা হাইকোর্ট এর কাছে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে জবাব দিতে বলা হয় রাজ্যকে। পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি সহ পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে এই মামলা যেহেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাই দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে। কিন্তু এদিনও এই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। ২৮ জুলাই আবার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।