কম্পিউটার স্নাতক, ঝরঝরিয়ে বলেন ইংরেজি! ভিক্ষা নয়, চান চাকরি! ভাইরাল মহিলা ভিক্ষুকের ভিডিও

কম্পিউটার স্নাতক, ঝরঝরিয়ে বলেন ইংরেজি! ভিক্ষা নয়, চান চাকরি! ভাইরাল মহিলা ভিক্ষুকের ভিডিও
কম্পিউটার স্নাতক, ঝরঝরিয়ে বলেন ইংরেজি! ভিক্ষা নয়, চান চাকরি! ভাইরাল মহিলা ভিক্ষুকের ভিডিও

কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক। বলেন ঝরঝর করে ইংরাজি। এক সময় উঁচু পদে চাকরিও করতেন। তবে ভাগ্যের ফেরে তিনি আজ পথের ভিখারি! সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল বেনারসের এই মহিলা ভিক্ষুকের কাহিনী। যা শুনলে আপনার চোখেও জল আসতে বাধ্য!

বেনারসের বেনারসের অসসি ঘাটের আশপাশেই থাকেন ওই মহিলা। না কোনও ঘর নয়, রাস্তাতেই দিন, রাত মাস-বছর কেটে যায় তাঁর। ভিক্ষাবৃত্তি করেই দিন চলে তাঁর। অসসি ঘাটের রাস্তার ধারে ভিক্ষার আশায় বসে থাকেন ওই মহিলা। পরনে মলিন শাড়ি, উস্কো-খুস্কো চুল। যে যা দিয়ে যাচ্ছেন তাই দিয়েই কোনও মতে একবেলা খেয়ে, রাস্তায় শুয়ে তাঁর দিন কাটছে৷

তবে একদিন এই মহিলা ভিক্ষুকের সঙ্গে কথা বলেই চমকে যান বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র, অবিনাশ। তিনি দেখেন ঝরঝরে ইংরেজিতে কথা বলছেন ওই মহিলা ভিক্ষুক। যা শুনে হতবাক হয়ে যান অবিনাশ। তিনি জানতে পারেন, ওই মহিলার নাম স্বাতী। তিনি কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক। সাউথে ছিল তাঁর বাড়ি ছিল। বড় চাকরিও করতেন। বিয়ের হয়ে এক সন্তান হয় তাঁর। এরপরই শরীরের একটা অংশ প্যারালাইজড হয়ে যায় স্বাতীর। কিন্তু সে সময় তাঁর চিকিৎসা না করিয়ে বেনারসের ঘাটে ফেলে রেখে যায় বাড়ির লোকজন। তারপর থেকে এখানেই রয়েছেন তিনি। প্রায় তিন বছর কেটে গিয়েছে। পরিবারের কেউই আর কোনও খোঁজ নেয়নি তাঁর।

মহিলা ভিক্ষুকটির হৃদয়স্পর্শী এই কাহিনীর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন অবিনাশ। তারপরই তা ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অবিনাশের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে ইংরেজিতে দিচ্ছেন স্বাতী। একটুও না থমকাচ্ছেন না। ভিডিওতেই স্বাতী বলতে শোনা যায়, অনেকেই তাঁকে দেখে মানসিক রোগী ভাবেন। কিন্তু তিনি একেবারে সুস্থ। ভিক্ষা নয় বরং চাকরি করতে চান স্বাতী। কিন্তু তাঁকে এখন কে দেবে চাকরি? তাই আপাতত বেনারসের ভিক্ষুক জীবনের সঙ্গেই নিজেকে অভ্যস্থ করে ফেলেছেন।

স্বাতীর জীবনের করুণ কাহিনী জানার পর সোশ্যাল মাধ্যম জুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পরিবার থেকেও বর্তমানে সর্বহারা এই মহিলা। প্রায় প্রত্যেক নেটিজেনই তাই প্রতিবাদ জানিয়ে স্বাতীর পরিবারের এই ঘৃণ্য কাজকে সমালোচনা করেছেন। কিন্তু এরপরও কি আদৌ বদলাবে স্বাতীর জীবন? তাঁর পরিবারের চক্ষু কি আদৌ খুলবে? স্বাতী কি ফের নিজের পরিবারকে ফিরে পাবেন? নাকি ভিক্ষা করেই আবার দিন কাটাতে হবে তাঁকে? এসবের উত্তর তো সময়ই বলবে!