শিশুদের অজানা জ্বরে কী হবে চিকিৎসা পদ্ধতি? বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন স্বাস্থ্যভবনের

শিশুদের অজানা জ্বরে কী হবে চিকিৎসা পদ্ধতি? বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন স্বাস্থ্যভবনের
শিশুদের অজানা জ্বরে কী হবে চিকিৎসা পদ্ধতি? বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন স্বাস্থ্যভবনের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ক্রমশ বাড়ছে অজানা জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। অজানা জ্বরের প্রকোপ বাড়ায় উত্তরবঙ্গে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই অজানা জ্বরের প্রকোপ এতোটাই বেড়েছে যে, তা জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের গণ্ডি অতিক্রম করেছে। জলপাইগুড়ির পাশাপাশি ধূপগুড়ি এবং মালবাজার সঙ্গে বানারহাট হাসপাতালেও এই জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন।

এদিকে, কলকাতাতেও একই অবস্থা। এখানেও অজানা জ্বরে কাহিল শিশুরা। কেন এই জ্বর? এর চিকিৎসা পদ্ধতিই বা কী হবে? এসবের জন্যই এবার বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করল স্বাস্থ্যভবন। এই বিশেষজ্ঞ কমিটিতে থাকছেন সৌমিত্র ঘোষ, মিহির সরকার, ভাস্বতী ব্যনার্জী, বিভূতি সাহা, মৌসুমি নন্দীর মতো মেডিসিন, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং ভাইরোলজিস্টরা।

জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে জ্বর-সর্দি এবং কাশির উপসর্গ নিয়ে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে ১৩০ জন শিশু আসে। তাঁদের মধ্যে একজন মারা যায় এদিন সকালে। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে। এদিকে, শিশুটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে কলকাতায়। শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে কমপক্ষে ৭০ জন শিশুর। ভিড় উপচে পড়ছে হাসপাতালে আউটডোরেও।

কেন এভাবে হঠাৎ করে শিশুরা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে? চিকিৎসকদের কথায়, যারা হাসপাতালে আসছে, তাদের প্রায় সকলেরই প্লেটলেট দ্রুত নেমে যাচ্ছে। অথচ ডেঙ্গি, এমনকী করোনা টেস্টে রিপোর্টও নেগেটিভ আসছে। প্রশ্ন তাহলে কেন এই জ্বর? রোগের উৎস সন্ধানে ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। গতকাল অর্থাৎ সোমবার সেই বিশেষজ্ঞ কমিটির ৫ সদস্য জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে এসেছিলেন। এবার রাজ্যস্তরেও বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হল।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগে মূলত শীতকালে শিশুরা ইনফ্লুয়েঞ্জা, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হত। কিন্তু, বর্তমানে বর্ষাকালেও তারা জ্বরে ভুগছে। এদিকে, এই জ্বরের সঙ্গে অনেকের শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। ফলে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও অনেক সময় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই এক্ষেত্রে সাবধানতা হিসেবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কোনওভাবেই যাতে শিশুরা বৃষ্টিতে না ভেজে, সেদিকে পরিবারকে বিশেষ নজর রাখার কথা জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এছাড়াও যথাসম্ভব বাইরের খাবার এড়িয়ে চলা, বাড়ির কারও সর্দি কাশি থাকলে তাঁর থেকে শিশু যাতে দূরত্ব বজায় রাখে সেদিকে নজর রাখা। বারবার হাত ধোয়া এসব দিকেও অভিভাবকদের নজর দিতে হবে বলেও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।