জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই শুভ দিনে বাকি কেন্দ্রের উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা মমতার! দেখে নিন একনজরে

জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই শুভ দিনে বাকি কেন্দ্রের উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা মমতার! দেখে নিন একনজরে
জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই শুভ দিনে বাকি কেন্দ্রের উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা মমতার! দেখে নিন একনজরে

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ পুজোর আগেই উৎসব শুরু হয়ে গেল ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপনির্বাচনে জয় দিয়ে। শেষপর্যন্ত ভবানীপুর মমতারই। শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল। আজ ভোটের ফল প্রকাশের পর, তাদের সেই বিশ্বাসেরও জয় হল। এই কেন্দ্রের লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ছিল সম্মানের লড়াই। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে মোট ৫৮ হাজার ৮৩২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন মমতা। ২০১১ সালে পালাবদলের বছরে উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু এবার সেই ব্যবধানকেও ছাপিয়ে গিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

আর এদিকে, পুজো মিটলেই ফেরে রাজ্যে উপনির্বাচন। ৩০ অক্টোবর ভোট হবে রাজ্যের আরও চারটি কেন্দ্রে। এই চারটি কেন্দ্র হল, শান্তিপুর, দিনহাটা, খড়দহ এবং গোসাবা। রবিবার ভবানীপুরের ফল ঘোষণার পরই এই চারটি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, আলোচনা চলছে গোসাবার প্রার্থীকে নিয়ে। এককথায় এই প্রার্থী তালিকায় কোনও চমক নেই।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, উপনির্বাচনে শান্তিপুর আসনে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ব্রজকিশোর গোস্বামী। বৈষ্ণব পরিবারের সদস্য তিনি। রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যোগ না থাকলেও, তাঁর উপরই ভরসা করছে জোড়াফুল শিবির। কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, এলাকায় বৈষ্ণব বাড়ির যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তাই ব্রজকিশোর গোস্বামীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত তৃণমূলের। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়েছিল অজয় দে-কে। তবে, বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ সরকারের কাছে পরাজিত হন তিনি। জগন্নাথ সরকার বিধায়ক পদ গ্রহণ না করায় এবার সেই আসনেই হবে উপনির্বাচন।

দিনহাটায় উপনির্বাচনে দলের দীর্ঘদিনের সৈনিক উদয়ন গুহর উপরই ভরসা রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও এই কেন্দ্রে তিনিই প্রার্থী ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের। মাত্র একশোরও কম ভোটে বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকের কাছে পরাজিত হন তিনি। কিন্তু নিশীথ প্রামাণিক বিধায়ক পদ ছাড়ায়, এই কেন্দ্রে ফের উপনির্বাচন হতে চলেছে।

এদিকে, খড়দহ কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বেশ কয়েকদিন আগেই খড়দহ আসনে উপনির্বাচনে শোভবদেব চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে প্রচার শুরু করেছিল কর্মী-সমর্থকরা। রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খড়দহ আসনে প্রার্থী হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করলেন। বিধানসভা নির্বাচনে ওই আসনে তৃণমূল প্রার্থী করেছিল কাজল সিনহাকে। ভোটের ফল ঘোষণার আগেই মৃত্যু হয় তাঁর। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। সেই কারণেই এবার ওই আসনে হচ্ছে উপনির্বাচন।

অন্যদিকে, বিধানসভা নির্বাচনে গোসাবা থেকে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জয়ন্ত নস্কর। জয়ীও হয়েছিলেন। কিন্তু এর পরেই কয়েকমাস আগে মৃত্যু হয় তাঁর। সেই কারণেই ওই আসনে হবে উপনির্বাচনে। ওই আসনের প্রার্থীর নাম এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি তৃণমূল। এদিন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন দু’জনের নাম। তাঁদের মধ্যে একজন প্রয়াত বিধায়ক জয়ন্ত নস্করের ছেলে বাপ্পাদিত্য নস্কর। অন্যজন পঞ্চায়েত প্রধান সুব্রত মণ্ডল। এই দু’জনের মধ্যেই একজনকেই উপনির্বাচনে গোসাবা থেকে প্রার্থী করবে তৃণমূল।

এই চার কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এটা স্পষ্ট যে, উপনির্বাচনে স্থানীয় নেতৃত্বের উপরই ভরসা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। পাশপাশি, এই চার আসনের ভোটেও তৃণমূলের জয় নিয়ে আশাবাদী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।