অবশেষে চালু ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প, ব্যাপক সাড়া! খুশি সাধারণ গ্রাহকরা

অবশেষে চালু ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প, ব্যাপক সাড়া! খুশি সাধারণ গ্রাহকরা
অবশেষে চালু ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প, ব্যাপক সাড়া! খুশি সাধারণ গ্রাহকরা / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ অবশেষে চালু হল রাজ্য সরকারের অন্যতম চর্চিত ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প। মঙ্গলবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর বুধবারই ছিল কার্যত দুয়ারে রেশনের প্রথম দিন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী, মানুষের হাতে রেশন সামগ্রী তুলে দিতে গাড়ি নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় পৌঁছে যান রেশন ডিলাররা। রেশন তোলার জন্য সাধারণ মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কারণ এতদিন তাঁদের রেশন তুলতে যেতে হত। আর এখন ঘরের সামনে থেকেই রেশন তুলতে পেরে, স্বাভাবিকভাবেই খুশি সাধারণ মানুষ।

রাজ্যে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ জানান যে, ‘আজ থেকে সাড়া রাজ্যেই দুয়ারে রেশন চালু হয়েছে। মানুষের কাছ থেকে আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি। আগে মানুষকে রেশন তোলার জন্য রেশন দোকানে ভোর থেকে লাইন দিতে হতো। যাঁদের একটু দূরে বাড়ি, তাঁদের অনেক ঝক্কি পোহাতে হতো। এখন তাঁরা নিজের এলাকায় বসে রেশন পাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে পেরে আমরাও ভীষণ খুশি।’

প্রতীকী ছবি

এদিকে, রাজ্য খাদ্য দফতর সূত্রে খবর, এদিন প্রায় সব জেলাতেই দুয়ারে রেশন চালু হয়েছে। প্রথম দিনে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমল দু’টি পরিবারের হাতে রেশন সামগ্রী তুলে দেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক কুহুক ভূষণ, পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার প্রমুখ। হাজির ছিলেন মেদিনীপুর জেলার ১০২৬ জন রেশন ডিলার। অন্যদিকে, এদিন ঝাড়গ্রামের বাসিন্দারাও বাড়ির কাছে রেশন পেয়ে খুশি। এদিন জেলার মোট ৩৫৯ জন ডিলার দুয়ারে রেশনে অংশগ্রহণ করেছেন।

এছাড়া দুয়ারে রেশন নিয়ে খুশি সোনারপুর, নরেন্দ্রপুর, ভাঙড়ের গ্রাহকরাও। বারুইপুর মহকুমার দায়িত্বে থাকা খাদ্য সরবরাহ আধিকারিক শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আপাতত তাঁরা সপ্তাহে চারদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেশন পৌঁছে দেবেন। পরে পরিস্থিতি অনুযায়ী দিনের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।

আবার এর অন্য ছবিও রয়েছে। দুয়ারে রেশন পরিষেবা দিতে গিয়ে অনেক জায়গায় আবার ডিলাররা অসুবিধায় পড়ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যেমন, হুগলি শিল্পাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকার রেশন ডিলারদের একাংশ জানাচ্ছেন, কার্ডের চরিত্র অনুযায়ী, প্রত্যেকটি পরিবার বর্তমানে রেশন পেয়ে থাকে। খাদ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে এক একটি পরিবার ১০ কেজি থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত চাল, গম পেয়ে থাকে। এই বিপুল পরিমাণ রেশন সব এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকায়, কাজে তাঁদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।