শিল্প প্রসার ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার! প্রকাশিত হল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার

শিল্প প্রসার ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার! প্রকাশিত হল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার / Image Source- Facebook Post By @INCWestBengal
শিল্প প্রসার ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার! প্রকাশিত হল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার / Image Source- Facebook Post By @INCWestBengal

ইতিমধ্যেই বাকি প্রায় সব দলই ইস্তেহার প্রকাশ করেছে। অবশেষে সোমবার বিধান ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে প্রকাশিত হল কংগ্রেসের দলীয় ইস্তেহার। এই ইস্তেহারের নাম রাখা হয়েছে, ‘বাংলার দিশা’। সেখানে মূলত ৮টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিল্প প্রসার ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির অঙ্গীকারের পাশাপাশি ইস্তেহারে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের গুণগত মান উন্নয়ন এবং আইনের শাসন ও মহিলা নিরাপত্তাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিন, প্রদেশ সভাপতি তথা কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী নিজের হাতে ইস্তেহার প্রকাশ করে জানালেন, “আমাদের এই ইশতেহারে আটটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাতে যেমন রয়েছে আইনের শাসনের অঙ্গীকার, তেমনই রয়েছে শিক্ষা-স্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং শিল্প-সংস্কৃতি রক্ষার অঙ্গীকারও।” পাশাপাশি অধীর এও দাবী করেন, “কংগ্রেসের প্রতি আশা বাড়ছে। দলের টিকিট পেতে এবার চাহিদা তুঙ্গে। ২০২১-এ যা প্রতিযোগিতা, তা ২০১৬-য় দেখিনি। প্রার্থী হওয়ার চাহিদা দেখেই বোঝা যাচ্ছে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ বাংলায় উজ্জ্বল। যাঁরা বাংলায় পরিবর্তন চাইছেন, তাঁরা সকলেই সংযুক্ত মোর্চাকে ভোট দেবেন।”

একনজরে দেখে নেওয়া যাক কংগ্রেসের ইস্তেহারের অঙ্গীকারসমূহ…

শিল্প প্রসার ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার! প্রকাশিত হল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার
শিল্প প্রসার ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার! প্রকাশিত হল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার

১. আইনের শাসন ও মহিলা নিরাপত্তার অঙ্গীকার
দক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত পুলিশ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি থানায় মহিলাদের সুরক্ষার জন মহিলা পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

২. সামাজিক সুরক্ষার অঙ্গীকার
সমাজের আর্থিক অনগ্রসর ২০শতাংশ পরিবারকে প্রতি মাসে ৫,৭০০ টাকা করে সাহায্য প্রদান করা হবে। করােনা অতিমারীতে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মহারা পরিযায়ী শ্রমিকদের পরবর্তী চাকরিতে নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত পরিবারপিছু মাসে ৫,০০০ টাকা করে অন্তবর্তীকালীন ভাতা দেওয়া হবে।

৩. শিল্প প্রসার ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির অঙ্গীকার
নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠা করা অগ্রাধিকার পাবে। পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সাতটি উন্নয়ন অঞ্চল তৈরি করে নতুন কলকারখানা করা হবে। দুর্গাপুর আসানসােলে বৈদ্যুতিক গাড়ী তৈরীর কারখানা করা হবে। এর সাথে সংযুক্ত অনুসারী শিল্পগুলি বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এছাড়া মেডিকেল যন্ত্রপাতি উৎপাদন, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, আইটি/ আইটিইএস / ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (MSME) ওপর জোর দেওয়া হবে।

৪. অন্নদাতা কৃষকদের উন্নয়নের অঙ্গীকার
কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক তিনটি কালা কৃষি আইনের বিলােপ করার জন্য সর্বোচ্চ দাবি জানানাে হবে। সরকারি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা MSP বজায় রাখা হবে। চাষের জন্য ব্যবহৃত বিদ্যুৎ এর জন্য সরকারের থেকে নুন্যতম ২০ % ভর্তুকি দেওয়া হবে। আমরা কৃষকদের উপার্জনের মাত্রা অন্ততপক্ষে দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে এবং তাদের সার্বিক সহায়তা ও জীবনধারণের মানের সার্বিক উন্নতিকল্পে সহায়তা করার জন্য ব্যাপক ও বিস্তৃত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর।

৫. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের গুণগত মান উন্নয়নের অঙ্গীকার
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির প্রশাসনে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না এটা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। মিডডে মিল বাবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। SSC-TET-উচ্চ প্রাথমিকের পরীক্ষা নিয়মিত স্বচ্ছতা এবং ফলাফলের সময়ােচিত ঘােষণা নিশ্চিত করে অনুষ্ঠিত হবে। করােনা অতিমারীর দুর্দশা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্যে সমস্ত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামাে ঢেলে সাজানাে হবে।

শিল্প প্রসার ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার! প্রকাশিত হল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার
শিল্প প্রসার ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার! প্রকাশিত হল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার

৬. জল ও পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার
আর্সেনিকের বিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রতিটি বাড়ীর জন্য পরিশ্রুত পানীয় জল নিশ্চিত করা হবে। মুর্শিদাবাদ এবং মালদা জেলার নদীর ভাঙন রােধ এবং ভুগর্ভস্থ জলের স্তর উন্নতি করার লক্ষ্যে সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৭. শিল্প, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য রক্ষার অঙ্গীকার
বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য – আমাদের পরিচয়ের মধ্যে একটি অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এই বৈচিত্রকে সুরক্ষিত রাখা এবং সংরক্ষণ করার জন্য কংগ্রেস দায়বদ্ধ। বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও একটি অত্যন্ত দৃঢ় সংস্কৃতি রয়েছে। আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ বাংলায় এসে। তাদের আবাস হিসাবে বসতি স্থাপন করেছে। তারা বাংলার সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। কংগ্রেস বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য রক্ষা করতে এবং স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার পরিবেশে শিল্পসংস্কৃতির বিকাশ নিশ্চিত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

৮. দান খয়রাতির রাজনীতি নয়, স্থিতিশীল ও দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের অঙ্গীকার
জাতীয় কংগ্রেস পশ্চিমবাংলার জন্য দান-খয়রাতির রাজনীতি নয়, বরং স্থিতিশীল উন্নয়ন করতে বদ্ধপরিকর। ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের আমলেই বাংলার সবচেয়ে বেশি স্থিতিশীল উন্নতি হয়েছিল। কংগ্রেস আবার সেই ডঃ বিধান রায়ের স্বপ্নের বাংলা মানুষকে ফিরিয়ে দিতে চায়।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.