স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী কমিশন! অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারায় অভিযোগ দায়ের প্রয়াত তৃণমূল প্রার্থী কাজল সিনহার স্ত্রীর

স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী কমিশন! অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারায় অভিযোগ দায়ের প্রয়াত তৃণমূল প্রার্থী কাজল সিনহার স্ত্রীর
স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী কমিশন! অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারায় অভিযোগ দায়ের প্রয়াত তৃণমূল প্রার্থী কাজল সিনহার স্ত্রীর

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। ভোটের আবহে বাংলায় হু হু করেছে বেড়েছে সংক্রমণ। রাজ্যের করোনা পরিস্থিতির জন্য ইতিমধ্যে দায়ী করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। দিল্লি, কলকাতা এবং মাদ্রাজ হাইকোর্টে ইতিমধ্যেই সমালোচিত হয়েছে কমিশনের ভূমিকা।

এদিকে এই পরিস্থিতিতে, বুধবার ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারায় অভিযোগ দায়ের করলেন প্রয়াত তৃণমূলের প্রার্থী কাজল সিনহার স্ত্রী নন্দিতা সিনহা। খড়দহের প্রয়াত তৃণমূল প্রার্থী কাজল সিনহার স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন। প্রার্থী এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা তারা একেবারেই ভাবেনি।

উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল করোনার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় খড়দহের তৃণমূলের প্রার্থী কাজল সিনহার। আজ অর্থাৎ বুধবার বিকেলে খড়দহ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রয়াত কাজল সিনহার স্ত্রী নন্দিতা দেবী। তিনি ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন এবং কমিশনের অন্যান্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করেছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত এ প্রসঙ্গে কমিশনের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

প্রয়াত তৃণমূল নেতার স্ত্রীর দাবি, দেশজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই কমিশন ৮ দফায় ভোটের আয়োজন করে বাংলায়। শেষ কয়েক দফার ভোট এক দফায় করার অনুরোধ বারবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে করা হলেও, কমিশন তাতে কর্ণপাত করেনি।

এরপর নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় কাজল সিনহার। সুদীপ জৈনের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছেন প্রয়াত তৃণমূল প্রার্থীর স্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘আমার স্বামীর মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী কমিশন।’ ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৬৯, ২৭০, ৩০৪ (পার্ট II) ও ১২০বি ধারায় এফআইআর করেছেন প্রয়াত তৃণমূল প্রার্থীর স্ত্রী।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ষষ্ঠ দফা ভোটের আগের দিন অর্থাৎ ২১ এপ্রিল সকালে, করোনা আক্রান্ত হন খড়দহের তৃণমূলের প্রার্থী কাজল সিনহা। সেদিনই তাঁকে বেলেঘাটা আইডিতে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। টানা তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর, অবশেষে তিনি হার মানেন। রবিবার সকালে কাজল সিনহা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শুধু কাজল সিনহাই নন, ভোটের আবহে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরের দুই প্রার্থী।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.