নন্দীগ্রাম সফরে গিয়ে কেঁদে ফেললেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়!

নন্দীগ্রাম সফরে গিয়ে কেঁদে ফেললেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়!
নন্দীগ্রাম সফরে গিয়ে কেঁদে ফেললেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়!

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসাকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল। রাজ্যজুড়ে বিজেপি সমর্থকদের অভিযোগ, তাঁদের উপর দুষ্কৃতীরা হামলা চালাচ্ছে। এর জেরেই শনিবার অভিযোগ ওঠা অঞ্চলগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নন্দীগ্রাম সফরে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।

শনিবার অর্থাৎ আজ রাজ্যপাল যান নন্দীগ্রাম এবং তার সন্নিহিত এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। এর আগে তিনি কোচবিহারেও গিয়েছিলেন। সেখানে বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার জন্য তাঁকে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল। এরপর শুক্রবার অসমে গিয়ে রাজ্যছাড়াদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। রাজ্যপালের এই সফরকে ঘিরে সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ, রাজ্যপাল সমাজবিরোধীদের উস্কানি দিচ্ছেন, তাঁকে বরখাস্ত করার দাবিও তোলা হয়। রাজ্যপালকে চিঠি লিখে বিধি মেনে চলার বিষয়ে ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ হেলিকপ্টার থেকে নামার সময়ে তাঁকে স্বাগত জানান শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার সময়ে তাঁকে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা যায়নি। সম্ভবত কোচবিহারের ঘটনার কারণেই তিনি রাজ্যপালকে সঙ্গ দেননি। এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

আজ রাজ্যপাল কেন্দামারি, জলপাই, চিল্লাগ্রাম প্রভৃতি জায়গায় যান। সেখানে আক্রান্তদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। অভিযোগ, চিল্লাগ্রামে এক বিজেপি সমর্থককে মারা হয়। ১৩ তারিখে মারা যান বিজেপি সমর্থক দেবব্রত মাইতি। তাঁর বাড়িতেও যান রাজ্যপাল। সেখানে মৃতের মা গভর্নরের সামনেই কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে যান। যা দেখে গভর্নরের চোখেও জল আসে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের পর নন্দীগ্রাম পরিদর্শন করলেন বাংলার কোনও রাজ্যপাল। গত প্রায় এক সপ্তাহ আগে নন্দীগ্রাম পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিনিধি দল। এদিন নন্দীগ্রামে পা রেখেই, ফের একবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, ‘একদল মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। আরেকদল বেপরোয়া। পুলিশ প্রশাসনের কোনও ভয়ডর নেই। সময় হয়ে এসেছে, মুখ্যমন্ত্রী কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’ তিনি আরও বলেন যে, ‘করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ অসহায়। হাতজোড় করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, মানুষের দুঃখ বুঝুন।’