রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের হুঁশিয়ারি, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ফেরালেই নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা, জারি বিজ্ঞপ্তি

রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের হুঁশিয়ারি, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ফেরালেই নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা, জারি বিজ্ঞপ্তি
রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের হুঁশিয়ারি, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ফেরালেই নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা, জারি বিজ্ঞপ্তি / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ফেরানো নিয়ে এবার কড়া বার্তা দিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্যের সব বেসরকারি নার্সিংহোম এবং হাসপাতালগুলিকে স্বাস্থ্য দফতর থেকে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ না করে, রোগী ফেরালে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সেই নার্সিংহোম বা হাসপাতালের বিরুদ্ধে। বাতিল করা হবে লাইসেন্স।

ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিসমেন্টড আইনের উল্লেখ করে, এই হুঁশিয়ারি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের। উল্লেখ্য, এই আইন মোতাবেক, সরকারি প্রকল্পের অংশ হওয়া বাধ্যতামূলক। রোগী প্রত্যাখ্যানে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। এই প্রসঙ্গে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও রোগী ফিরিয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতল, এই ধরনের অভিযোগ প্রায় প্রতিদিনই আসছিল। এরপরেই এই ধরনের ঘটনার প্রতিবাদে আসরে নামে বিরোধীরা। মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের তুলনাও করা হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে রাজ্য প্রশাসন।

রোগী ফেরানো রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরকে। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। এরপরেই এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয় যে, যে হাসপাতালগুলিতে ১০ টির বেশি শয্যা রয়েছে, সেই হাসপাতাল বাধ্যতামূলকভাবে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় আসবে। যদি তারা কোনও রোগীকে ফেরান, তাহলে সেক্ষেত্রে উক্ত হাসপাতালের বিরুদ্ধে ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই প্রসঙ্গে মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে, স্বাস্থ্যসাথী রেট নিয়ে হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমগুলির কাছে তাঁদের আবেদন ছিল যে, যাতে কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া না হয়। তাঁদের রেট চার্ট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি বলেন যে, চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ প্যাকেজেই ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রেট বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এদিন তিনি এও উল্লেখ করেন যে, ইতিমধ্যেই ৬৭ লাখ কার্ড দেওয়া হয়েছে রাজ্যে। আরও ৮০ লাখ কার্ড দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ১৫৩৭ বেসরকারি হাসপাতাল। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে মোট শয্যা সংখ্যা ধার্য হয়েছে ১,২২,০২৫। তিনি এও দাবি করেন যে, পাঁচ ধরনের রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসার রেট বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ICU, কার্ডিও থোরাসিক, CAPD ইত্যাদি। এমনকী সাধারণ অপারেশনের ক্ষেত্রেও ১০ থেকে ১৫ শতাংশ রেট বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর এই রেট বৃদ্ধির কারণেই নাকি প্রায় ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে রাজ্যের।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.