৫০ জন নিয়ে বিয়েবাড়ি, আংশিক লকডাউনের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে কীসে কীসে ছাড়?

৫০ জন নিয়ে বিয়েবাড়ি, আংশিক লকডাউনের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে কীসে কীসে ছাড়?
৫০ জন নিয়ে বিয়েবাড়ি, আংশিক লকডাউনের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে কীসে কীসে ছাড়? /প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যে উত্তরোত্তর বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণ রুখতে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। গতকালই বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয় যে, কিছু কিছু পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে অনির্দিষ্টকালের জন্য। তবে, আজ ফের আংশিক লকডাউনের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

এদিকে আগামীকাল রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচনের ফল প্রকাশ। তার আগে আংশিক লকডাউনের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, সর্বোচ্চ ৫০ জনকে নিয়ে বিয়েবাড়ি বা সামাজিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো যাবে। তবে, সেই সব অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্রত্যেককে কড়াভাবে করোনাবিধি মেনে চলতে হবে।

এর পাশাপাশি কোন কোন দোকান কখন খোলা থাকবে, তাও বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে রাজ্যের পক্ষ থেকে। শনিবার সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, মুদিখানা, ওষুধের দোকানের পাশাপাশি দুধের দোকান, টেলি কমিউনিকেশনের দোকান, বিদ্যুৎ সামগ্রীর দোকান, পরিবহন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত দোকানের মতো অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনে লাগে এমন জিনিস বিক্রি করা হয় যে সব দোকানে, সেগুলো এই আংশিক লকডাউনের আওতায় আসবে না। এর অর্থ এইসব দোকান সারাদিন খোলা রাখা যাবে। এছাড়া মিষ্টির দোকান, মাংসের দোকানও খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যের পক্ষ থেকে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাজ্যের তরফে জারি করা নির্দেশিকা বলা হয়েছিল, সংক্রমণ রুখতে আগামীকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে রাজ্যের সমস্ত রেস্তরাঁ-বার। বন্ধ থাকবে সিনেমাহল, শপিং মল, জিম, স্পা, বিউটি পার্লার, সুইমিং পুল। দোকান-বাজার খোলা থাকবে নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য।

বলা হয় যে, এই নির্দেশিকাকে সামগ্রিক লকডাউন বলা চলে না। আর্থিক ক্ষতি এড়িয়ে, বিধিনিষেধ জারি করেই, যাতে করোনা সংক্রমণে রাশ টানা যায়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা।

এবার একনজরে ভাল করে বিশদে জেনে নেওয়া যাক কী কী বলা হয়েছিল কালকের নির্দেশিকায়।

সিনেমা হল, রেস্তরাঁ ছাড়াও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে শপিং মল, বার, স্পা, বিউটি পার্লার, সুইমিং পুল, স্পোর্টস কমপ্লেক্স ও জিম। সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা পড়াশোনার বিষয়েও এমন কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না, যেখানে প্রচুর মানুষের জমায়েত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

দোকান-বাজার খোলা রাখার সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা এবং বিকেল ৩ টে থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বাজার। তবে, এক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের উপর। এখানেই সংশোধিত নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে কোন কোন দোকান খোলা থাকবে সে সম্পর্কে।

এছাড়াও ভোটের ফল প্রকাশের দিন গণনা কেন্দ্রে ভিড় বা জমায়েত করা যাবে না, বিজয় মিছিল করা যাবে না বলে কমিশন যে রায় আগেই দিয়েছিল, সেই নির্দেশ বলবৎ রেখেছে রাজ্য।

আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য এই নির্দেশিকা বহাল থাকবে। তবে হোম ডেলিভারি এবং অনলাইন পরিষেবাগুলি স্বাভাবিকভাবেই চলবে বলেও জানানো হয়েছে নবান্ন থেকে জারি হওয়া আজকের এই নির্দেশিকায়।

নবান্ন থেকে জারি হওয়া কালকের নির্দেশিকায় এও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল যে, রাজ্যের সর্বত্র অবিলম্বে এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে হবে। নির্দেশিকা না মানলে, বিপর্যয় মোকাবিলা আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা ছিল নির্দেশিকায়৷

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, করোনার সংক্রমণ রুখতে আগেই সোমবার থেকে দক্ষিণ দমদমের বাজারগুলি সপ্তাহে তিনদিন অর্থাৎ সোম, বুধ, শুক্রবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এপ্রিল মাসজুড়ে ভোটের আবহে ঝড়ের গতিতে বেড়েছে সংক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে বিধিনিষেধ আরোপ না করলে, লাগামছাড়া সংক্রমণ রোখা সম্ভব হত না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের৷

তবে, শুক্রবারের নির্দেশিকার পরেও, আজ অর্থাৎ শনিবার রাজ্যের কিছু জায়গায় রাজ্যের নির্দেশিকা অনুযায়ী লকডাউন পালনের চিত্র নজরে আসেনি। আবার বেশিরভাগ জায়গাতেই নিয়ম পালিতও হয়েছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.