বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই, ২০২২

অনলাইন পরীক্ষার মাঝেই অবাধে গণটোকাটুকি! পরীক্ষা নাকি টোকার প্রতিযোগিতা? উঠছে প্রশ্ন

মৌসুমী মোদক

প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২২, ০২:২৯ পিএম | আপডেট: জুন ২৩, ২০২২, ০২:৩৮ পিএম

অনলাইন পরীক্ষার মাঝেই অবাধে গণটোকাটুকি! পরীক্ষা নাকি টোকার প্রতিযোগিতা? উঠছে প্রশ্ন
অনলাইন পরীক্ষার মাঝেই অবাধে গণটোকাটুকি! পরীক্ষা নাকি টোকার প্রতিযোগিতা? উঠছে প্রশ্ন

এ কী পরীক্ষা? নাকি পরীক্ষার নামে প্রহসন! ঠিক এমনই ঘটনার সাক্ষী রইল জলপাইগুড়ি শহর। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের (North Bengal University) দ্বিতীয় এবং চতুর্থ সেমিস্টারের অনলাইন পরীক্ষা (Online Exam) চলছে । অথচ বই খাতা খুলে পরীক্ষা দিচ্ছেন ছাত্রছাত্রীরা। অবাধে চলছে গণ টোকাটুকি। যা দেখে প্রশ্ন উঠছে এ কী আদৌ পরীক্ষা চলছে? নাকি কোনও গণ টোকাটুকির প্রতিযোগিতা?

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনন্দচন্দ্র কমার্স কলেজ। সেই কলেজের দ্বিতীয় ও চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষা চলাকালীনই এমন ঘটনা ঘটল। কলেজের  উল্টো দিকেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের অফিসর (Primary education council office)। সেই অফিস চত্ত্বরে বসেই বই খুলে দেদার গণ টোকাটুকি করলেন পরীক্ষার্থীরা। অথচ প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি গোটা বিষয়টি দেখেও যেন নজরে আনলেন না! উঠছে এমনই অভিযোগ।

এদিন জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদে বারান্দায় বসে যেভাবে টোকাটুকি চলল, তা দেখে কার্যত চমকে উঠতে হয়। কেউ বই খুলে, কেউ নোট দেখে, কেউ আবার মোবাইল দেখে পরীক্ষা দিলেন। কিন্তু কেন এরকম কাণ্ড? পরীক্ষার্থীদের একাংশের অকপট স্বীকারোক্তি, ঠিকভাবে সিলেবাস শেষ করা হয়নি। এইভাবে পরীক্ষা দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না! বাধ্য হয়েই এমন ভাবে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে তাদের। তবে এরকমভাবে পরীক্ষা দেওয়ার যে অর্থহীন, সেরকমটাও মনে করছেন অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী।

এদিকে ডিপিএসসি ক্যাম্পাসের মধ্যে বসে ছাত্র-ছাত্রীদের এমন কাণ্ডে হতবাক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান লক্ষ মোহন রায় স্বয়ং। ঘটনা প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, "দেখেও না দেখার ভান করেছি। উপায় নেই। এইভাবে বই দেখে পরীক্ষা দিয়ে আদৌ কী লাভ আমার তা জানা নেই। আমি ওদের জিজ্ঞাসা করলে ওরা জানায় যে কলেজের পড়ুয়ারা নাকি অনেক দূর থেকে আসে। তাই এই চত্বরে বসে ওরা পরীক্ষা দিচ্ছে।"

অন্যদিকে, কলেজের অধ্যক্ষ সিদ্ধার্থ সরকারের কথায়, "অনলাইন পরীক্ষা হওয়ায় আমাদের কোনও নজরদারি থাকে না। তাই এ ব্যাপারে আমি কোনও মন্তব্য করব না। তবে আগেও দেখেছি অনলাইন পরীক্ষা বই দেখেই হয়।”

উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে অনলাইন পরীক্ষায় মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিয়ে  শিক্ষা মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি অফলাইনের বদলে যাতে অনলাইন পরীক্ষা হয় তা নিয়ে বিক্ষোভ বা আন্দোলনেও সামিল হয়েছেন রাজ্যের পড়ুয়ারা। বুধবার জলপাইগুড়ির এই ঘটনায় আবারও সেই প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।