সোমবার, ০৮ আগস্ট, ২০২২

মোবাইল ফেলে গিয়েছিলেন প্ল্যাটফর্মের সিটে, হঠাৎ মনে পড়তেই চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ! মৃত নার্সিং স্টাফ

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: মে ২১, ২০২২, ১২:১৪ পিএম | আপডেট: মে ২১, ২০২২, ১২:১৯ পিএম

মোবাইল ফেলে গিয়েছিলেন প্ল্যাটফর্মের সিটে, হঠাৎ মনে পড়তেই চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ! মৃত নার্সিং স্টাফ
মোবাইল ফেলে গিয়েছিলেন প্ল্যাটফর্মের সিটে, হঠাৎ মনে পড়তেই চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ! মৃত নার্সিং স্টাফ

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ প্ল্যাটফর্মের সিটেই রেখেছিলেন নিজের মোবাইল ফোনটি। ইতিমধ্যেই স্টেশনে ঢুকে পরে ট্রেন। ট্রেনে ওঠার ঠিক পরের মুহূর্তেই মনে পড়ে যায় ফোনের কথা। ফোনটি উদ্ধার করতে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি। মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এক নার্সিং স্টাফের। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়গপুর শাখার ফুলেশ্বর স্টেশনে।

জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম শিবানী ঘোড়ুই। তিনি ফুলেশ্বরের সঞ্জীবন হাসপাতালে অ্যাসিস্ট্যান্ট নার্স হিসেবে কর্মরতা। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার রাতে ডিউটি শেষে বাড়ি ফিরছিলেন শিবানী। ট্রেন আসার নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি পৌঁছে যান ফুলেশ্বর স্টেশনে। স্টেশনের একটি সিটে বসেই ফোন দেখতে থাকেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই স্টেশনে ঢুকে পড়ে ট্রেন। তড়িঘড়ি ট্রেনেও উঠে পড়েন শিবানী। তখনও তাঁর মাথায় ছিলনা যে ফোনটি স্টেশনের সিটেই ফেলে এসেছেন। এরপর আচমকাই মনে পড়ে যায় ফোনের কথা। ততক্ষণে ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু ফোন উদ্ধার করতে চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন শিবানী। ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর মাথায় গুরুতর চোট লাগে।

রেল পুলিশের কর্মীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিবানীকে উদ্ধার করে নিয়ে যান উলুবেড়িয়া মহাকুমা হাসপাতালে। পরে সেখান থেকে তাঁকে সঞ্জীবন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। শিবানীর প্রাণ বাঁচানোর সমস্ত রকম চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এরপরই খবর দেওয়া হয় উলুবেড়িয়া থানায়। জানা গিয়েছে, মৃতদেহ পাঠানো হবে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে।

পুলিশ জানিয়েছে, ট্রেন থেকে উল্টোদিকে পড়ে যাওয়ায় শিবানীর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। যার জেরেই মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুর খবর শিবানীর পরিবারকে জানানো হয় সঞ্জীবন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে। জানা গিয়েছে, বিগত ছয় বছর ধরে এই হাসপাতালে অ্যাসিস্ট্যান্ট নার্স হিসেবে কাজ করছিলেন শিবানী। পাশাপাশি কর্ণাটক থেকে নার্সিংয়ের জিএনএম কোর্সও করছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু সব শেষ করে দেয়। শিবানীকে হারিয়ে শোকাহত সহকর্মীরা। অন্যদিকে তাঁর পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।