কী ছিল এই তিন কৃষি আইন? কেনই বা এই আইন নিয়ে এত চর্চা?

কী ছিল এই তিন কৃষি আইন? কেনই বা এই আইন নিয়ে এত চর্চা?
কী ছিল এই তিন কৃষি আইন? কেনই বা এই আইন নিয়ে এত চর্চা?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ গুরুনানকের জন্মদিন। আর আজকের দিনেই বড় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রের বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করল কেন্দ্র। কাজেই স্বাভাবিকভাবেই এতদিন ধরে কৃষকদের আন্দোলন সফল হল বলা যায়।

গুরুনানকের জন্মদিন গুরুপরবে এই ঘোষণা করেন মোদী। মোদী তাঁর ভাষণে বলেন, ‘হয়তো আমাদের তপস্যায় কিছুর অভাব ছিল, যে কারণে আমরা কৃষকদেরকে এই আইন সম্পর্কে বোঝাতে পারিনি। তবে আজ প্রকাশ পর্ব, কাউকে দোষারোপ করার সময় নয়। আজ আমি দেশকে বলতে চাই যে আমরা তিনটি কৃষি আইন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।

আজ প্রত্যাহারের ঘোষণার পরেই আন্দোলনরত কৃষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী অনুরোধের সুরে বলেন, ‘এবার আপনারা বাড়ি ফিরে যান।’ আজ প্রধানমন্ত্রী জানান যে, সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই এই তিন বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বস্তুত ২০২২ এবং ২৩-এ দেশের মধ্যে একাধিক বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ২০২৪-এ রয়েছে লোকসভা নির্বাচন। তাই এইসব নির্বাচনকে মাথায় রেখেই মাস্টারস্ট্রোক দিলেন প্রধানমন্ত্রী। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। গুরুনানকের জন্মদিনে ৩ কৃষি আইন বাতিলের ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এদিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে মোদী বলেন, ‘আমাদের সরকার ছোট কৃষকদের কথা ভেবে, দেশের কথা ভেবে, গ্রাম এবং গরিবদের উন্নতির কথা ভেবে পূর্ণ সততার সঙ্গে এই আইন এনেছিল। কিন্তু এই সহজ কথা আমাদের হাজার চেষ্টার পরও আমরা কিছু কৃষককে বোঝাতে পারিনি। অল্প সংখ্যক কৃষক এর বিরোধিতা করলেও, সেটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতিবিদরা, বিশেষজ্ঞরা ওদের বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, আমরা ওদের কথা শুনেছি, বোঝার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। আজ দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছি, হয়তো আমাদের তপস্যায় কোনও ঘাটতি ছিল। তাই প্রদীপের আলোর মতো এই সত্য কৃষকদের বোঝাতে পারিনি। তবে আজ কাউকে দোষারোপ করার সময় নয়। আজ আমি দেশকে বলতে চাই যে আমরা তিনটি কৃষি আইন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে তিন কৃষি বিল সংশোধন করে আইনে পরিণত করে কেন্দ্রের মোদী সরকার। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রতিবাদ জানালেও, তাঁদের দাবিটে কর্ণপাত করা হয়নি। এরপরই দিল্লি, পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানে তুমুল প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়। আজ এই আইন প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণার পরই, বিক্ষোভের উল্টো ছবি সামনে আসে। কৃষকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ধরা পড়েছে। শুরু হয়েছে মিষ্টি, লাড্ডু বিতরণ।

এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, কী এই বিতর্কিত কৃষি আইন? কেনই বা এই আইন নিয়ে এত চর্চা? কেন এত বিতর্ক?

রমার্স প্রোডিউস ট্রেড অ্যান্ড কমার্স (প্রোমোশন অ্যান্ড ফেসিলিটেশন) অ্যাক্ট, ২০২০ (The Farmers’ Produce Trade and Commerce (Promotion and Facilitation) Bill, 2020), ফারমার্স (এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড প্রটেকশন) এগ্রিমেন্ট অব প্রাইস অ্যাসিওরান্স অ্যান্ড ফার্ম সার্ভিসেস অ্যাক্ট, ২০২০ (Farmers (Empowerment & Protection) Agreement of Price Assurance & Farm Services Bill), এসেনশিয়াল কমোডিটিজ (সংশোধিত) বা অত্যাবশ্যক পণ্য আইন (The Essential Commodities (Amendment) Bill, 2020)।

সরকারের দাবি ছিল, এই কৃষি আইনে বড় ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া বন্ধ হবে। মান্ডির বাইরেও কৃষকরা যেখানে খুশি এবং যাঁকে খুশি তাঁদের শস্য বিক্রি করতে পারবেন। কৃষকরা বাজারের সর্বোচ্চ মূল্য পাবেন। এই আইনে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যের উপরেও জোর দেওয়া হয়। পরিবহন খরচ কমানোর প্রস্তাবও করা হয়। সর্বোপরি বিলের উদ্দেশ্য ছিল, কৃষকদের কৃষি-বাণিজ্য সংস্থা এবং খুচরো পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করা।

অন্যদিকে, কৃষকদের অভিযোগ, এই আইন লাগু হলে সরকার ধীরে ধীরে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (MSP) বাজার থেকে ফসল কেনা বন্ধ করে দেবে। বাজার থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ সরে যাবে। কৃষকদের পুঁজিপতিদের মুখের দিকে চেয়ে থাকতে হবে। বড় খুচরো ব্যবসায়ীরা কৃষকদের উপরে আধিপত্য বিস্তার করবে। কৃষকদের আতঙ্ক, সংস্থাগুলি কৃষি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা শুরু করবে।