ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা নিচ্ছে রাজ্য সরকার? স্থলভাগ থেকে কত দূরে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ?

ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা নিচ্ছে রাজ্য সরকার? স্থলভাগ থেকে কত দূরে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ?
ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা নিচ্ছে রাজ্য সরকার? স্থলভাগ থেকে কত দূরে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রবল গতিতে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ। আগেই কেন্দ্রের তরফে জারি হয়েছে সর্তকতা। কেন্দ্রের পাশাপাশি এই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সতর্ক রাজ্য প্রশাসনও।

তাই ব্যবস্থা হিসেবে ইতিমধ্যেই আটটি NDRF টিম মোতায়েন করা হয়েছে। কলকাতায় ২ কোম্পানি NDRF টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এক কোম্পানি করে NDRF টিম মোতায়েন করা হয়েছে দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, হুগলি এবং নদিয়ায়।  ১২টি জেলার জেলা শাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে সতর্কবার্তা।

সূত্রের খবর, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ রুখতে নবান্নের প্রস্তুতি তুঙ্গে। কল্যাণী, দিঘা, কাকদ্বীপ, সন্দেশখালি, আরামবাগ এবং খড়গপুরে একটি করে এবং কলকাতায় দুটি টিম মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবারের মধ্যে আরও আটটি টিম মোতায়েন করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ৩ ডিসেম্বর থেকে দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও হাওড়ায় অল্প বৃষ্টি হবে। ৪ ডিসেম্বর বৃষ্টির দাপট বাড়বে। কলকাতা, দুই ২৪ পরগণা, দুই মেদিনীপুর, হাওড়া এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। ৫ ডিসেম্বর বৃষ্টির দাপট বাড়বে। উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা। ৬ ডিসেম্বরও বৃষ্টিপাত হতে পারে। উত্তরবঙ্গের মালদহ, দুই দিনাজপুর, কালিম্পয়েও বৃষ্টি হতে পারে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই এই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে কেন্দ্রীয় সংকট মোকাবিলা কমিটি। বিভিন্ন রাজ্য প্রশাসনের তরফে এই ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবার নেতৃত্বে বুধবার এই বৈঠক হয়।

উক্ত কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মুখ্যসচিব ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। সেখানে তাঁরা ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি আটকাতে কী ব্যবস্থা প্রশাসনিক স্তরে নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। যে রাজ্যগুলিতে ক্ষয় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে আপাতত ৩২টি দল পাঠিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এছাড়া প্রয়োজনে আরও অতিরিক্ত দল পাঠাতে হতে পারে বলে খবর। এর পাশাপাশি পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হচ্ছে নৌবাহিনীকেও।

এই কমিটির বৈঠকে কেন্দ্রীয় মৌসম ভবনের ডিরেক্টর জেনারেল জানিয়েছেন, একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে বঙ্গোপসাগরের উপরে। চলতি মাসের ৩ তারিখ তা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আকার নেবে। এরপর সেটি অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অতিক্রম করবে ৪ ডিসেম্বর, সেই সময় এটির হাওয়ার গতি থাকবে, ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার। পাশাপাশি বিপুল বৃষ্টি ও সমুদ্রের প্রবল ঢেউয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ওড়িশা ও অন্ধ্র উপকূলে এই প্রাকৃতির দুর্যোগ দেখা দেবে। ঘূর্ণিঝড় মূলত প্রভাব ফেলবে শ্রীকাকুলাম, বিশাখাপত্তনম ও বিজয়নগরমে। এছাড়া এর প্রভাব পড়বে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে। দক্ষিণবঙ্গে প্রবল বৃষ্টি হতে পারে এই দুর্যোগের প্রভাবে। তাই এই দুর্যোগের মোকাবিলায় সবরকমভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য।