সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কোভিডে মৃত্যু সংক্রান্ত নয়া গাইডলাইন প্রকাশ কেন্দ্রীয় সরকারের

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কোভিডে মৃত্যু সংক্রান্ত নয়া গাইডলাইন প্রকাশ কেন্দ্রীয় সরকারের
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কোভিডে মৃত্যু সংক্রান্ত নয়া গাইডলাইন প্রকাশ কেন্দ্রীয় সরকারের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশে করোনায় মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। কোন কোন ক্ষেত্রে এই আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে, এই বিষয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। তাই এই সমস্যার সমাধানে দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে করোনায় মৃত্যু সংক্রান্ত নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করল কেন্দ্রের মোদী সরকার।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ বা ICMR মিলিতভাবে এই নতুন গাইড লাইন তৈরি করেছে। করোনায় কারও মৃত্যু হলে, তার প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথি দেখানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকায়।

শীর্ষ আদালতে যে নতুন গাইডলাইন কেন্দ্র সরকার জমা দিয়েছে, তাতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সপ্সত বলা হয়েছে যে, র‍্যাপিড আ্যান্টিজেন টেস্ট, মলিকিউলার টেস্ট ও আরটি পিসিআর টেস্টের মাধ্যমেই চিহ্নিত করা হবে মৃত ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত ছিলেন কি না। যদি এর মধ্যে কোনও পরীক্ষাই না হয়ে থাকে তাহলে কোনও হাসপাতাল থেকে করোনা হওয়ার প্রমাণ রাখতে হবে। কোনও চিকিৎসকও যদি করোনা আক্রান্ত বলে চিহ্নিত করেন, সেটাও প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে আইসিএমআর-এর গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল যে মেডিক্যাল পরীক্ষায় করোনা ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়ার দিন থেকে শুরু করে ২৫ দিনের মধ্যে যদি কারও মৃত্যু হয়, তাহলে তা করোনায় মৃত্যু বলে চিহ্নিত হবে। কিন্তু এখন কেন্দ্রের নয়া এই গাইডলাইনে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস ধরা পড়ার ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যু হলেই তা কোভিডে মৃত্যু বলে চিহ্নিত করা হবে। হাসপাতাল বা কোনও চিকিৎসালয়ের বাইরে তথা বাড়িতে মৃত্যু হলেও তা কোভিডে মৃত্যু হিসেবেই চিহ্নিত হবে।

এর পাশাপাশি, গাইডলাইনে আরও বলা হয়েছে যে, যদি করোনা পরীক্ষা রিপোর্ট আসার আগেই বাড়িতে বা হাসপাতালে কারও মৃত্যু হয়, তাহলে ডেথ সার্টিফিকেট থাকলেও করোনায় মৃত্যু হিসেবে চিহ্নিত হবে। তবে, করোনা আক্রান্ত হলেও যদি কারও মৃত্যু দুর্ঘটনায় হয় বা কেউ আত্মঘাতী হন অথবা কাউকে হত্যা করা হয়, তাহলে তা করোনায় মৃত্যু বিবেচিত বা গণ্য হবে না।
করোনায় মৃত্যু সংক্রান্ত গাইডলাইনের বিষয়ে বা এই গাইডলাইন তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। গত ৩ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। সেখানেই গাইডলাইন কেন তৈরি হয়নি, সেই উত্তর চাওয়া হয় কেন্দ্রের কাছে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে। জুন মাসেই গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। করোনায় মৃত্যু হলে, যাতে মৃত ব্যক্তির পরিবারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ পেতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই কারণেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।