শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস থেকে কেন উধাও হল রবীন্দ্রনাথের ছবি? প্রশ্ন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস থেকে কেন উধাও হল রবীন্দ্রনাথের ছবি? প্রশ্ন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের
শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস থেকে কেন উধাও হল রবীন্দ্রনাথের ছবি? প্রশ্ন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

“কেন্দ্রের বিজেপি সরকার প্রতিনিয়ত গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উত্তরাধিকারকে অসম্মান ও অপমান করেছে।” বুধবার এই ভাষাতেই মন্তব্য করলেন তৃণমূলের মহাসচিব তথা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ও পরিষদীয়মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

সৈয়দ হাসমত জালাল বহু বছর ধরে শান্তিনিকেতনে যাতায়াত করছেন। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে নাম বদলের এমনই অভিযোগ এনে নিজের ফেসবুক পোস্টে জানান, লকডাউনের পর থেকে ‘শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস’ চলছে ‘হাওড়া-বোলপুর স্পেশাল’ নামে। এর পর রাজ্যে বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ে নেমে বঙ্গ সংস্কৃতির সঙ্গে নৈকট্য তুলে ধরার মরিয়া চেষ্টায় মজে থাকা কেন্দ্রের শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

পার্থবাবু টুইটে এ দিন লিখেছেন, “শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস থেকে কেন উধাও হল তাঁর ছবি?! বাংলার মানুষ এই বহিরাগতদের বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কিছুতেই নষ্ট করতে দেবে না!”

সূত্রের খবর, ওই ট্রেনের বাতানুকূল কামরায় ভিতরের দরজার দু’পাশে এবং চার দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথের আঁকা ছবির প্রতিলিপি ও শান্তিনিকেতন আশ্রমের ছবি লাগানো থাকত। সেই সব ছবি আর চোখে পড়ছে না। এমনকি রেলের কোচের গায়ে ট্রেনের নামের জায়গায় লেখা ‘দীনদয়ালু কোচ’। প্রায় সাড়ে তিন দশকের পুরনো শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস থেকে এ ভাবে কবিগুরুর স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা নিয়েই প্রতিবাদে সরব অনেকে।

এদিকে এই পোস্ট ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পুরনো ছবি ফিরিয়ে আনা হবে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। তবে, প্রাথমিক ভাবে রেলের দাবি ট্রেনের নাম বদলের অভিযোগ ঠিক নয়। করোনা পরিস্থিতিতে সারা দেশে মেল ও এক্সপ্রেস শ্রেণির সব ট্রেনকেই বিশেষ ট্রেন হিসেবে চালানো হচ্ছে। তাই পুরনো নামে সেই অর্থে কোনও ট্রেনই চলছে না বলে দাবি করেছেন রেলকর্তারা। সেই কারনেই শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেসের নাম বদল হয়েছে। এই নাম বদলের বিষয়টি একেবারেই তাৎক্ষনিক বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব ট্রেন যখন আগের অবস্থায় ফিরবে, তখন ‘শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস’ও তার পুরনো নাম ফিরে পাবে বলে জানিয়েছেন রেল কর্তারা।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.