কেন মমতার কথায় কেউ কান দিচ্ছেন না?

কেন মমতার কথায় কেউ কান দিচ্ছেন না?
কেন মমতার কথায় কেউ কান দিচ্ছেন না?

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ত্রাণ নিয়ে দলবাজি নয়। আমফানের ত্রাণ বন্টন নিয়ে এবং সর্বদলীয় বৈঠকে তিনি যাদের উদ্দেশ্যেই এ কথা বলুন বুঝতে হবে, ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে, ত্রাণ বিলিতে স্বচ্ছ্বতা ছিল না, সে কথা সরকারিভাবে তিনি স্বীকার করছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলনেত্রী সরব হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘কেউ কাটমানি নিয়ে থাকলে ফেরত দিতে হবে’। বহু তৃণমূল নেতার বাড়িতে টেকা মুশকিল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাতেও তৃণমূল দলে দুর্নীতি থামেনি। ফের মমতাকে ত্রাণ বন্টনের দুর্নীতি নিয়ে ‘ঝিকে মেরে বউকে শেখানো’-র সুরে বলতে হয়েছে দলবাজি নয়।

তিনি বলেছেন, ত্রাণ নিয়ে স্বজনপোষণ সরকার মানবে না, সে যে দলই করে থাকুক। কেবল তাই নয়, তিনি দলীয় কর্মীদের অবাধ্যতা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে তাদের শায়েস্তা করতে বিডিও- জেলাশাসককে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংশোধনের অধিকার দিতে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। একাধিক বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে আমফান পরবর্তী কমিটি গঠনের কথাও তিনি বলেছে। যে কমিটি আমফান পরবর্তী পরিস্থিতির মোকাবিলায় রিপোর্ট দেবে এবং তার ভিত্তিতে কাজ করা হবে। এই কমিটিতে বিরোধী নেতাদের মধ্যে দিলীপ ঘোষ, সুজন চক্রবর্তী এবং প্রদীপ ভট্টাচার্যকে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সর্বদল বৈঠকে খাদ্য দফতর-সহ বিভিন্ন দফতরের সচিবদের বদলির প্রসঙ্গও উঠলে সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘মন্ত্রীরা কি সাধু’। বিডিও অফিস থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রকাশের দাবি় বিডিও অফিসের মাধ্যমে আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রকাশের দাবি তোলা হয়েছে সিপিএম-এর তরফে।

লক্ষ্যণীয়, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। বলেছিলেন, ‘কেউ কাটমানি নিয়ে থাকলে ফেরত দিতে হবে।’ তার পর বাড়িতে টেকা মুশকিল হয়ে গিয়েছিল বহু তৃণমূল নেতার। কিন্তু তারপরও মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে হল, আমফানের ত্রাণে স্বজনপোষণ মানবে না সরকার। তা সে যে দলই করে থাকুক না কেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে মুখ্যমন্ত্রী নিজের পাতা ফাঁদে পড়েছেন। ক্ষমতায় এসে দলীয় কর্মীদের বিশৃঙ্খলাকে প্রচ্ছন্নে নানা ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন তিনি। অধ্যাপক নিগ্রহকে বলেছেন, ‘ছোট ছেলেদের কাজ’। বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতির স্বচ্ছ্ব ভাবে তদন্ত করাননি তিনি। তাতেই লুঠপাটকে অধিকার বলে ভাবতে শুরু করেছেন তৃণমূলকর্মীরা। যার চরম রূপ দেখা যাচ্ছে আমফানের ক্ষতিপূরণে।

বাসমালিকরাও তাঁর কথা শুনছেন না বলে এদিন কার্যত মেনে নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছেন ভাড়া না বাড়ালে বাস নামাবো না। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ভাড়া কী করে বাড়াবো? এখন বাসমালিকদের মানবিকতার খাতিরে বাস চালানো উচিত। মুনাফার জন্য নয়।’

অথচ ক্ষমতায় আসার আগে এই বাসমালিকরা ছিলেন মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বাম জমানায় আদালতের নির্দেশে ১৫ বছরের পুরনো বাস বাতিলের প্রতিবাদে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন বাসমালিকরা। সেই আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার জেরে বেশ কয়েকদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল কলকাতার মানুষকে। ক্ষমতায় এসে বাসমালিকদের সংগঠনের নেতা স্বর্ণকমল সাহাকে বিধায়ক করেছেন মমতা। কিন্তু বাসমালিকরা আর শুনছেন না মুখ্যমন্ত্রীর কথা।

সরকারের কথা শুনছেন না সরকারি ডাক্তারবাবুরাও। তাই হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরালে বিভাগীয় পদক্ষেপের হুমকি দিতে হচ্ছে স্বাস্থ্য দফতরকে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সরকারের জারি করা চিকিৎসা সংক্রান্ত নির্দেশিকা তাঁরা মানছে না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ফের একবার নির্দেশিকা জারি করতে প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। কিন্তু তাতেও কাজ হবে কি?

বেসরকারি হাসপাতালগুলির ওপর চাপ বাড়াতে ক্ষমতায় এসে হেলথ রেগুলেটরি কমিশন বানিয়েছেন মমতা। আইএমএ-র মতো সংস্থা থাকতে রাজ্যের তরফে কমিশন তৈরি মোটেও ভালভাবে নেয়নি বেসরকারি হাসপাতালগুলি। তাই সুযোগ পেয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতার পথে হেঁটেছে তারাও। তাই এখন তিনি জল উঁচু বললেই যে আর জল উঁচু হবে না, তা মেনে নেওয়ার সময় এসেছে মমতার।

আরও পড়ুনঃ  বীরভূমে তৃণমূল "ছিল-আছে-থাকবে", নেত্রীকে কথা দিলেন কেষ্ট

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.