ভোট ব্যাংকের অবস্থা ভাঁড়ে মা ভবানী! তবে কি হারিয়ে যাচ্ছে বামপন্থা?

ভোট ব্যাংকের অবস্থা ভাঁড়ে মা ভবানী! তবে কি হারিয়ে যাচ্ছে বামপন্থা?
ভোট ব্যাংকের অবস্থা ভাঁড়ে মা ভবানী! তবে কি হারিয়ে যাচ্ছে বামপন্থা?

ভোটের আগে সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছিলেন বাংলায় এবার দ্বিমুখী নয় ত্রিমুখী লড়াই হবে। কিন্তু শেষ কথা বলল ইভিএম মেশিন। ভোটের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হওয়ার আগেই একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তৃণমূলের জয়। এবং খুব স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা গিয়েছিল প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। আর প্রশ্ন উঠছে তবে কি হারিয়ে যাচ্ছে বামপন্থা?

রবিবার দিনের প্রথমার্দ্ধ থেকেই প্রায় শ্মশাণের নিস্তব্ধতা আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএমের সদর দফতরে। প্রার্থী বাছাইয়ে এবার নবীন, উচ্চশিক্ষিত, ঝকঝকে বেশ কিছু প্রার্থীকে দাঁড় করিয়েছিলেন। কিন্তু সকাল থেকেই একের পর এক অশুভ সংবাদ। শেষে জানা গেল দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা মহম্মদ সেলিম হেরেছেন। খবর ভাল নয় যাদবপুরে সিপিএমের সুজন চক্রবর্তীরও।

কেন এই হাল? প্রবীন নেতা, সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বরিষ্ঠ সদস্য রবীন দেব জানালেন, “এবারের ভোটটা এক কথায় ছিল অভূতপূর্ব। মুসলমানরা কংগ্রেস, বামেদের থেকে সম্পূর্ণ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অন্য রাজ্যে হলেও অন্তত স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে এ রকম কখনও দেখা যায়নি”।

যে সিঙ্গুর ২০১১-র নির্বাচনে পরিবর্তনে অনুঘটকের কাজ করেছিল, সেই সিঙ্গুরে সিপিএম প্রার্থী তথা এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য প্রচারপর্বে জানিয়েছিলেন ভোটে জিতবেন তিনি। তবে ফল ঘোষণার আগের দিন শনিবার বলেন, “জিতব কী হারব জানিনা, তবে ফল ভাল হবে”। কিন্তু রবিবার দেখা গেল অনেক ব্যবধানে পিছিয়ে তিনি।এদিন বিকেলের পর বলেন, “এখনও ভোটের হিসেবটা পাইনি। কারণ হিসাবে বলেন ভোটের মেরুকরণ”।

বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রে সংযুক্ত মোর্চা এবার প্রার্থী করেছিল সিপিএমের মৃত স্থানীয় নেতা প্রদীপ তা-র সম্ভাবনাময় কন্যা পৃথা তা-কে। প্রচারপর্বে পৃথা দাবি করেছিলেন, জেতার ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যায় জানান, প্রথম দুটি স্থান পেয়েছে তৃণমূল ও বিজেপি। পৃথার ঝুলিতে পড়েছে প্রায় ১২ হাজার ভোট। তিনি বলেন, “অন্তত এই কেন্দ্রে এতটা কম ভোট পাব, বুঝতে পারিনি।”

এদিকে সন্ধ্যে গড়াতেই সংযুক্ত মোর্চার পক্ষে বিমান বসুর বিবৃতি দিয়ে জানান, “এই নির্বাচনে বিজেপি-র পরাজয় উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী হয়েছে।
সংযুক্ত মোর্চা নির্বাচনে বিপর্যস্ত হয়েছে। কেন এই বিপর্যয় হলো তা আমরা পরবর্তী সময়ে সংযুক্ত মোর্চার সমস্ত শরিক নিজ নিজ দলে আলোচনা করে, যৌথ পর্যালোচনা করে কারণ অনুসন্ধান করব এবং সেই অনুযায়ী শিক্ষা গ্রহণ করব। কিন্তু ফলাফল দেখে প্রাথমিক ভাবে হয়ত একথা বলা যেতে পারে বিজেপি-কে পরাস্ত করার জন্য জনগণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই তৃণমূল লাভবান হয়েছে”।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.