ফের রাজ্যে মনুয়াকাণ্ডের ছায়া! হাত-পা ভেঙে, মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে খুন স্বামীকে, গ্রেফতার স্ত্রী

ফের রাজ্যে মনুয়াকাণ্ডের ছায়া! হাত-পা ভেঙে, মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে খুন স্বামীকে, গ্রেফতার স্ত্রী
ফের রাজ্যে মনুয়াকাণ্ডের ছায়া! হাত-পা ভেঙে, মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে খুন স্বামীকে, গ্রেফতার স্ত্রী / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যে আবারও মনুয়াকাণ্ডের ছায়া! নৃশংসভাবে খুন হলেন এক ব্যক্তি। হাত-পা ভাঙা এবং মাথা থেঁতলানো অবস্থায় সিঁড়ির নীচ থেকে উদ্ধার হল ওই ব্যক্তির দেহ। দেহ লোপাট করতে গিয়েই, ফাঁস হল আসল ঘটনা। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করল স্ত্রী। এমনই অভিযোগ উঠেছে। এই খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের ডেইলি মার্কেট এলাকায়। নিহত ব্যক্তির নাম মুসোহর। পুলিশের অনুমান, পরকীয়া এবং বিষয় সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই এই খুন। এই খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে মৃতের স্ত্রী, স্ত্রীর পুরুষ সঙ্গী এবং ছেলেকে।

জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুরের ডেইলি মার্কেট এলাকার বাসিন্দা, পেশায় রঙের মিস্ত্রি রাম মুসোহর রোজই মদ্যপান করতেন। এনিয়ে তাঁর স্ত্রী পঞ্চমীর সঙ্গে তাঁর নিত্য অশান্তি লেগেই থাকত। শুধু স্ত্রীই নয়, অশান্তি হত ছেলে বাপি মুসোহরের সঙ্গেও।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, বাবা এবং ছেলে উভয়েই রঙ মিস্ত্রির কাজ করত। এর মধ্যেই রামের পিসতুতো দাদা মনোজ দিল্লি থেকে এসে তাঁদের সঙ্গে রঙের কাজ করতে শুরু করে। কাজ ভালই হচ্ছিল। পরে রামের বাড়িতেই থাকতে শুরু করে মনোজ। এদিকে একসঙ্গে থাকার সুযোগে রামের স্ত্রী পঞ্চমীর সঙ্গে মনোজের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এনিয়েও স্ত্রীর সঙ্গে রামের অশান্তি হত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে, অতি সম্প্রতি কাজ ছেড়ে দিয়েছিল রাম। মদ খাওয়ার পরিমাণও বাড়িয়ে দিয়েছিল। সংসার চলত মূলত মনোজ এবং বাপির রোজগারে।

এরই মধ্যে মনোজ ও পঞ্চমী বাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। সেখানেই সম্ভবত বাধা হয়ে দাঁড়ায় রাম। এনিয়ে কয়েকদিন ধরে আশান্তিও হচ্ছিল রামের সঙ্গে। শেষপর্যন্ত মঙ্গলবার রাতে বাড়ির সিঁড়ির নীচে থেকে উদ্ধার হয় রামের হাত-পা ভাঙা, মাথা থ্যাঁতলানো মৃতদেহ।

অন্যদিকে, ওই দেহ লোপাটের জন্য একটি গাড়ির খোঁজ চালাচ্ছিল মনোজ। রামের ছেলে বাপিকেও একটি গাড়ি ভাড়া করে আনতেও বলে রামের দাদা মনোজ। কিন্তু বাড়ির বাইরে থাকায় গোটা ব্যাপারটা সে জানত না। গাড়ির খোঁজ করাতে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। শেষে প্রতিবেশীদের কয়েকজন বাড়িতে গিয়ে রামের খোঁজ করতেই আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে চলে আসে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। মৃতদেহের পাশাপাশি, শাবল, গাঁইতি, দা ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মুখ চেপে হাত-পা ভেঙে ও মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছে রামকে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে পঞ্চমী ও মনোজকে। আটক করা হয়েছে রামের ছেলে বাপিকেও।