অবাক কাণ্ড! ভুলবশত নন-ভেজ পিৎজা ডেলিভারি হওয়ায়, মহিলা গ্রাহক ক্ষতিপূরণ হিসেবে চাইলেন ১ কোটি টাকা!

অবাক কাণ্ড! ভুলবশত নন-ভেজ পিৎজা ডেলিভারি হওয়ায়, মহিলা গ্রাহক ক্ষতিপূরণ হিসেবে চাইলেন ১ কোটি টাকা!
অবাক কাণ্ড! ভুলবশত নন-ভেজ পিৎজা ডেলিভারি হওয়ায়, মহিলা গ্রাহক ক্ষতিপূরণ হিসেবে চাইলেন ১ কোটি টাকা! / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ডিজিটাল ডেস্কঃ ঘটনা প্রায় একমাস আগের। বাড়ির ছোটদের আবদারে এক মহিলা ক্রেতা ২০১৯ সালের ২১ মার্চ অর্ডার করেছিলেন ভেজ পিৎজা। কিন্তু যখন বাড়িতে পিৎজা ডেলিভারি দেওয়া হল, তখন ক্রেতার চক্ষু চড়কগাছ। এ যে ভেজের বদলে চিকেন পিৎজা দেওয়া হয়েছে। ধর্মনাশের জোগাড়! জীবনে কোনদিন ভুলেও মাছ, মাংস ছুঁয়ে দেখেননি। কিন্তু সেদিন পিৎজায় কামড় দিয়েই বুঝলেন, মাশরুমের বদলে তাতে রয়েছে মাংস।

সঙ্গে সঙ্গেই কাস্টমার কেয়ারে অভিযোগ। তাঁর অভিযোগ পেয়েই বিনামূল্যে ফের পিৎজা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রস্তুতকারক সংস্থার ম্যানেজার। এতেই পরিস্থিতি আরও বিগড়ে যায়। এরপরই ওই মহিলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। রেগে গিয়ে একেবারে এক কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা ঠুকে দেন পিৎজা সংস্থার বিরুদ্ধে।

ক্রেতার নাম দিপালী ত্যাগী, তিনি উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বাসিন্দা। তাঁরা পুরো পরিবার সম্পূর্ণ নিরামিষাশী। জীবনের ওই ঘটনার পূর্বে কোনদিন মাছ, মাংস স্পর্শ করেননি। ২০১৯ সালের ২১ মার্চ, দোলের দিন বাড়ির বাচ্চাদের আবদার মেটাতে অনলাইনে একটি নিরামিষ পিৎজা অর্ডার করেছিলেন। ৩০ মিনিটের মধ্যে খাবার এসে পৌঁছনোর কথা থাকলেও, তা নির্দিষ্ট সময় পার করেই পৌঁছয়। তারপরে, তাতে কামড় বসাতেই তিনি বুঝতে পারেন যে, পিৎজায় মাশরুমের বদলে মাংস রয়েছে। এরপরই তিনি কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে অভিযোগ জানান।

এর কিছুদিন পরে ২৬ মার্চ, ওই পিৎজা আউটলেট থেকে এক ব্যক্তি ফোন করেন দিপালী ত্যাগীকে। তিনি নিজেকে ওই সংস্থার জেলা ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে বলেন যে, দিপালী ত্যাগী যদি অভিযোগ তুলে নেন, তাহলে তাঁর গোটা পরিবারকে বিনামূল্যে দেওয়া হবে পিৎজা। এই কথা শোনার পরেই, আরও রেগে যান ওই মহিলা অভিযোগকারী। তাঁর মতে, শুধুমাত্র তাঁদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতই নয়, একই সঙ্গে তাঁদের সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান নিয়েও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। আমিষ পিৎজা খাওয়ার ফলে, তিনি যে পাপ করেছেন, তা ঘোচাতে তাঁকে দীর্ঘ প্রথা অনুসরণ করতে হবে। আর এর জন্য তাঁর লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হবে।

এরপরেই এই যুক্তিতে তিনি ক্রেতাসুরক্ষা আদালতে ওই পিৎজা প্রস্তুতকারক সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই দিল্লির ত্রেতাসুরক্ষা আদালত ওই পিৎজা সংস্থাকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১৭ মার্চ রয়েছে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.