আগুন লেগেছে বহুতলে! সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে নীচে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন মা, অতঃপর?

আগুন লেগেছে বহুতলে! সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে নীচে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন মা, অতঃপর?
আগুন লেগেছে বহুতলে! সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে নীচে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন মা, অতঃপর?

সন্তানের জন্য মা কী-ই না করতে পারেন। বিশেষ করে কোনও বিপদে পড়লে নিজের জীবন বাজি রেখে সন্তানের প্রাণ রক্ষা করতেও রাজি থাকেন মা। কিন্তু সম্প্রতি সন্তানের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টায় এক মা যা করলেন তা দেখে চোখ কপালে উঠল নেটিজেনদের। বহুতলে আগুন লাগায় সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে তাকে নীচে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন মা! পরিস্থিতির চাপে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন মা। ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে হল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানেই দেখা গেল এমন ভয়াবহ কাণ্ড!

ঘটনাটি ঘটেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। সেখানে বহুতলের ১৬ তলায় হঠাতই আগুন লেগেছিল। সেখানেই মেয়েকে নিয়ে ছিলেন ওই মহিলা। জানা গিয়েছে, মহিলার নাম নালেদি মানইয়োনি। তাঁর দু’বছরের মেয়ের নাম মেলোকুহলে। আগুন লাগার কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল বহুতল। তখনই মেয়ের প্রাণ বাঁচাতে তাঁকে নীচে ছুঁড়ে দেন নালেদি। এরপর কিছুক্ষণের জন্য মাথা কাজ করছিল না তাঁর। হঠাৎ কী থেকে যে কী ঘটে গেল তা বোধহয় উপলব্ধিও করতে পারছিলেন না। ভাগ্যক্রমে সেসময় নীচে থাকা দমকল বিভাগের কর্মী এবং স্থানীয় কয়েকজন শিশুটিকে লুফে নেন। তাই এ যাত্রায় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পায় সে।

ঘটনাটির ভিডিও টুইটারে শেয়ার করেছেন সাংবাদিক নোমসা মাসেকো। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বহুদলে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে বহুতলের একাংশ। এর মধ্যেই একটি তলায় একদম ধারে দাঁড়িয়ে সেই মহিলা। কোলে তাঁর সন্তান। আচমকাই তাঁকে দেখা গেল সন্তানকে নীচে ছুঁড়ে ফেলে দিতে। ভাগ্য সহায় থাকায় নীচে থাকা মানুষজন শিশুটিকে লুফে নেওয়ায় প্রাণে বাঁচে সে।

অবশ্য মহিলার এরকম আচরণ নিয়ে সরব হয়েছেন বহু নেটিজেন। তাঁদের মতে, এক চুল এদিক ওদিক হলেই বড় বিপদ ঘটতে পারতো। প্রাণে মারাও যেতে পারতো শিশুটি। মায়ের এমন আচরণ একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। যদিও মা নালেদির কথায়, আগুন লাগার পর তাঁর মাথা কাজ করছিল না। পারিপার্শ্বিক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তিনি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। কোনও রকমে কয়েকটা তলা নীচে নামতে পেরেছিলেন। তারপরই মেয়ের প্রাণ বাঁচাতে উপায় না দেখে ওরকম চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। ভেবেছিলেন নীচে থাকা লোকজন তাকে ঠিক লুফে নেবে। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গিয়েছে, মা এবং মেয়ে, দুজনেই এখন সুস্থ। তাঁদের কোনও ক্ষতি হয়নি।