জন্মানোর পর ওজন মাত্র ৩৪০ গ্রাম, বাঁচার আশা ছিল শূন্য! জীবন যুদ্ধে জয়ী সেই শিশুর প্রথম জন্মদিন পালন

জন্মানোর পর ওজন মাত্র ৩৪০ গ্রাম, বাঁচার আশা ছিল শূন্য! জীবন যুদ্ধে জয়ী সেই শিশুর প্রথম জন্মদিন পালন
জন্মানোর পর ওজন মাত্র ৩৪০ গ্রাম, বাঁচার আশা ছিল শূন্য! জীবন যুদ্ধে জয়ী সেই শিশুর প্রথম জন্মদিন পালন

রিচার্ড স্কট উইলিয়াম হাচিংসন। জন্মানোর পর গিনেস বিশ্বরেকর্ড অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে অপরিণত শিশু অর্থাৎ ওয়ার্ল্ড মোস্ট প্রিমেচিওরড বেবি হিসেবে ঠাঁই পেয়েছিল সে। নির্দিষ্ট সময়ের পাঁচ মাস আগে তার জন্ম হয়। তার ওজন ছিল মাত্র ৩৪০ গ্রাম। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, বাঁচার আশা শূন্য শতাংশ। কোনও ভাবেই বাঁচানো যাবে না তাকে। তবে সব মতকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে জীবন যুদ্ধে জয়ী সেই শিশু পালন করল প্রথম জন্মদিন। এখন আর পাঁচটা শিশুর মতোই সে সুস্থ ও সতেজ!

২০২০ সালের ৫ জুন, মিনেসোটার এক শিশু হাসপাতালে জন্ম হয় রিচার্ডের। আসলে তার জন্ম হওয়ার কথা ছিল আরও কয়েক মাস পরে। অক্টোবর নাগাদ। কিন্তু মা বেথ হাচিংসনের কিছু শারীরিক সমস্যা ছিল। তাই সময়ের আগেই শিশুটির জন্ম হয়। জন্মানোর পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার কথা জানানো হয় বাবা রিক হাচিংসনকে৷ তখনই চিকিৎসকরা জানান, সবচেয়ে খারাপ কিছুর জন্য অপেক্ষা করুন। শিশুটির বাঁচার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু হাল ছাড়েননি তাঁরা। রিচার্ডকে সুস্থ করে তোলার কোনও রকম চেষ্টাই বাকি রাখেননি চিকিৎসকরা।

কোভিডের কারণে নিও-নেটাল ওয়ার্ডে রিচার্ডকে দেখতে যেতে পারতেন না বাবা-মা। এইভাবে কাটে প্রায় ৬ মাস। অবশেষে মেলে সফলতা। সুস্থ হয়ে ওঠে রিচার্ড। তাকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন বেথ ও রিক। এরপর বছর ঘুরতেই হাজির সেই ৫ জুন। ঘটা করে পালন করা হয় রিচার্ডের প্রথম জন্মদিন। তার তো বেঁচে থাকার সম্ভাবনা টুকুও ছিল না। সেখান থেকে আজ জন্মদিন পালন৷ তা দেখে যেন খুশির ঝড় বইছে মা-বাবার মনে। বারবার ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি চিকিৎসকরাও অভিভূত শিশুটি সুস্থ, সতেজ করে তুলতে পেরে। রিচার্ডের এই কাহিনী অভিনব তো বটেই!