নাম নেই রেকর্ডের পাতায়! বিশ্বের আলাদা দুটি দেশকে যুক্ত করে রাখে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম ‘আন্তর্জাতিক’ সেতু

নাম নেই রেকর্ডের পাতায়! বিশ্বের আলাদা দুটি দেশকে যুক্ত করে রাখে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম 'আন্তর্জাতিক' সেতু
নাম নেই রেকর্ডের পাতায়! বিশ্বের আলাদা দুটি দেশকে যুক্ত করে রাখে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম 'আন্তর্জাতিক' সেতু

পুঁচকে এক বাঁশের সেতু। আর তা-ই জুড়ে রেখেছে দু’টি আলাদা দেশকে। ছোট্ট সেতুটি পার হলেই পৌঁছানো যাবে এক দেশ থেকে আরেক দেশে। অর্থাৎ আক্ষরিক অর্থেই এক আন্তর্জাতিক সেতু সেটি। তবে তার দৈর্ঘ্য জানলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। মাত্র ১০.৪ ফুট! আর সেটিই যা জুড়েছে স্পেন এবং পর্তুগালের মতো দেশকে।

খোদ ইউরোপের বুকেই গড়ে উঠেছে পুঁচকে এই সেতু। নাম ‘এল ম্যাক্রো’। তবে এটি গড়ে তোলার পিছনেও রয়েছে এক কাহিনী। স্পেনের এক্ট্রিমাদুরা এবং পর্তুগালের ভার্জিয়া গ্রান্দে নামে দুটি গ্রাম খুব কাছাকাছিই অবস্থিত। গ্রাম দুটির সম্পর্কও বেশ পুরোনো এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। সেই বন্ধুত্বকেই আরও গাঢ় করতে এবং নিজেদের মধ্যেকার যাতায়াতের নুন্যতম ব্যবধান ঘোচাতে হাত লাগিয়েছিলেন সেতু তৈরিতে। ২০০৮ সালে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগেই গড়ে উঠল এই ব্রিজ৷ প্রশাসন প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও বাধা দেয়নি কাজে।

নাম নেই রেকর্ডের পাতায়! বিশ্বের আলাদা দুটি দেশকে যুক্ত করে রাখে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম 'আন্তর্জাতিক' সেতু
নাম নেই রেকর্ডের পাতায়! বিশ্বের আলাদা দুটি দেশকে যুক্ত করে রাখে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম ‘আন্তর্জাতিক’ সেতু

তবে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম সেতু হিসাবে কোনও রেকর্ড বইয়ে নাম তুলতে পারেনি ‘এল ম্যাক্রো’। বরং সেখানে রয়েছে ভিন্ন এক নাম। নাম নেই গুগলের পাতাতেও। আশেপাশে নেই কোনও পর্যটন ক্ষেত্র বা যাতায়াতের জন্য কোনও পাতা রাস্তা। সেতুটিকে যেতে গেলে পেরোতে হবে গ্রামের ধুলো মাখা কাঁচা পথ। তবেই দেখতে পাবেন ছোট্ট এক নদীর ওপর পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম এই সেতু।

তাতে অবশ্য বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই গ্রামবাসীদের। নাম-যশ বা খ্যাতির আড়ালে থেকেই এই সেতু আরও দৃঢ় করেছে দু’টি গ্রামের বন্ধুত্বকে। আলাদা দুটি দেশ হয়েও যাদের মধ্যে নেই কোনও কাঁটাতারের বিচ্ছেদ। তাই পৃথিবীর মানচিত্র ঠাঁই না পেলেও মানবতার ইতিহাসে চিরকাল টিকে থাকবে এই সেতু।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.