ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! এই ১৯ টি জেলায় দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে করোনা সংক্রমণ

ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! এই ১৯ টি জেলায় দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে করোনা সংক্রমণ
ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! এই ১৯ টি জেলায় দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে করোনা সংক্রমণ/ প্রতীকী ছবি (ছবি সৌজন্যে- Facebook Post By @wbdhfw)

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশজুড়ে চলছে দ্বিতীয় পর্যায়ের করোনা টিকাকরণ প্রক্রিয়া। এই আবহে ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা। একাধিক রাজ্যে দ্রুত গতিতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। এর মধ্যে ১৯ টি জেলায় গত দশদিনে সবথেকে বেশি করোনা সংক্রমণের সংখ্যা সামনে এসেছে। উল্লেখ্য, এই ১৯ টি জেলার মধ্যে শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রেরই ১৫ টি জেলা রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে এমনটাই খবর পাওয়া গিয়েছে।

সূত্রের খবর, মহারাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় দাপট শুরু হয়ে গেছে। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে চিঠি লিখেছেন। পাশপাশি ওই রাজ্যের এই মুহূর্তের খারাপ করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গত সপ্তাহেই সেখানে কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল গিয়েছিল। সেই দলের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই স্বাস্থ্যসচিব চিঠি লেখেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীকে। সেই চিঠিতে রাজ্যের অব্যবস্থা এবং হঠকারিতাকে দায়ি করা হয়েছে। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। করোনার দাপট সবথেকে বেশি এই মুহূর্তে পুনেতে। তেমনটাই স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রের খবর।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুনে, নাগপুর, মুম্বইতে গত ১০ দিনের প্রতিদিন ১০০ টি করে করোনা সংক্রমণের খবর সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব জানিয়েছেন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসছে এটা বুঝতে পারার পরেও, ট্র্যাক টেস্ট, আইসোলেট এবং কোয়ারেন্টাইন করার জন্য যা করার দরকার তা যথেষ্টভাবে করা হয়নি। গ্রাম থেকে শহরে কোথাও সচেতনতা দেখা যায়নি।এদিকে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর, রাজ্য প্রশাসনের তরফে সতর্কবার্তা দিলেও পরিস্থিতির তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। যত দিন যাচ্ছে, ক্রমশ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এই আবহে বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন এবং রাতে কার্ফু জারি করা হয়েছে।

ক্রমশ উদ্বেগের এবং ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে পরিসংখ্যান। এক বছর আগের মহামারীর স্মৃতিতে ফের কাঁপছে মহারাষ্ট্র। মহারাষ্ট্রের নতুন করে করোনা থাবা বসিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন বা আংশিক লকডাউন ঘোষণার পরেও ফের নতুন করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে মহারাষ্ট্রে। এদিকে ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গার উদ্বেগজনক করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৫ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে সম্পূর্ণ লকডাউন। যা জারি থাকবে ২১ মার্চ পর্যন্ত। দেশব্যাপী লকডাউনে সরকার যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, এখানেও সেই নির্দেশ বলবৎ থাকবে। শুধুমাত্র অত্যাবশকীয় পরিষেবায় চালু থাকবে। শেষ একমাসে মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের বাড়বাড়ন্ত দেখেই, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। পাশাপাশি পুনেতেও আংশিক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই মুম্বই শহরব্যাপী স্কুল-কলেজ বন্ধ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ৩১ মার্চের পর স্কুল খুলবে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। পুনেতেও ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে স্কুল-কলেজ। পুনেতে কার্ফু জারি হতে চলেছে রাত্রি ১১ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত।

এদেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই, দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্র করোনা ভাইরাস দ্বারা সবথেকে বেশি প্রভাবিত রাজ্য ছিল। এরপরেই স্থান কেরল, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ুর। আর সবথেকে বেশি প্রভাবিত জেলার মধ্যে মাত্র তিনটি জেলা ছিল মহারাষ্ট্রের বাইরে। এর মধ্যে কর্ণাটকের বেঙ্গালুর, মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর ও তামিলনাড়ুর চেন্নাই রয়েছে৷ গত দশদিনে এই ১৯ জেলায় সবচেয়ে বেশি মামলা সামনে এসেছে৷ সেগুলি হল- পুনে- ২৬,২১৮, নাগপুর- ২০,১০৪, মুম্বই- ১১,৮৫৯, থানে- ১০,৯১৪, নাসিক-৯,০২৪, ঔরঙ্গাবাদ- ৬,৬৫২, জলগাঁও- ৬৫৯৮, ইন্দোর- ৫,২৩৮, বেঙ্গালুরু- ৫,০৪৭, অমরাবতী- ৪২৫০, অহমদগর- ৩,৯৬২, চেন্নাই- ৩,৮১১, মুম্বই উপনগরীয়- ৩,৩৫৫, যবতমাল- ৩,৩২৬, অকোলা-৩,২৯৯, বুলঢানা-৩,১৮৫, নাংদেড়- ৩,১৪৬, বর্ধা- ২,৪৩১, জালংধর- ২,৪২৪

উল্লেখ্য, দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ১৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৪৬৪ হয়ে গেছে৷ ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ০৭৯ জন আক্রান্ত মারা গেছেন৷ এই মুহূর্তে অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ২লক্ষ ৩১ হাজার ৩৩৫৷ মহারাষ্ট্রের করোনা ভাইরাস সংক্রমিতের সংখ্যা ২৩ লক্ষ ৪৭ হাজার ৩২৮৷ রাজ্যে মোট অ্যাক্টিভ কেস ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৮১৩৷

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.