ফের বিতর্কে বিষ্ণুপুরের সাংসদ! সভাপতি সৌমিত্রর বিরুদ্ধে দিলীপের কাছে নালিশ মোর্চা কর্মীদের! কিন্তু কেন?

ফের বিতর্কে বিষ্ণুপুরের সাংসদ! সভাপতি সৌমিত্রর বিরুদ্ধে দিলীপের কাছে নালিশ মোর্চা কর্মীদের! কিন্তু কেন?
ফের বিতর্কে বিষ্ণুপুরের সাংসদ! সভাপতি সৌমিত্রর বিরুদ্ধে দিলীপের কাছে নালিশ মোর্চা কর্মীদের! কিন্তু কেন?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বিজেপির যুবমোর্চায় ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মোর্চা সভাপতি সৌমিত্র খাঁকে নিয়ে বঙ্গ বিজেপির অস্বস্তি ক্রমশ বেড়েই চলেছে। দিন দুই আগে যুব মোর্চার গ্রুপে হওয়া অশান্তি নিয়ে এবার রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বারস্থ হলেন মোর্চা কর্মীদের একাংশ। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ই-মেল মারফৎ সৌমিত্রর বিরুদ্ধে নালিশ জানানো হয়েছে। এই ই-মেলে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে যুব মোর্চা সভাপতির বিরুদ্ধে সংগঠনেরই অন্যান্যদের পক্ষ থেকে।

এদিকে রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, যুব মোর্চার কয়েকজন সদস্য সৌমিত্র খাঁ’র বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে ই-মেল করেছেন। সেখানে উল্লেখ্য করা হয়েছে যে, যুব মোর্চাতে ‘ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি’ সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, বলা হয়েছে, সংগঠনের সভাপতি ‘একনায়কতন্ত্র নীতি নিয়ে চলছেন। এখানেই শেষ নয়, অভিযোগকারীদের আরও দাবি, দলীয় রীতির তোয়াক্কা না করেই, সৌমিত্র নিজের ইচ্ছামতো মেয়েদের যুব মোর্চার কোর কমিটিতে পদ দিচ্ছেন। পাশাপাশি বহু লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং পুরনো মহিলা কর্মীদের উপেক্ষা করছেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, সৌমিত্র খাঁ রাজনীতি করতে দেবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন। যদিও এ বিষয়ে বিষ্ণুপুরের সাংসদের জবাব, ‘দলের রাজ্য সভাপতি যদি জানতে চান, তাহলে জবাব দেন।’ তবে, এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

উল্লেখ্য, সৌমিত্র খাঁ রাজ্য বিজেপির যুবমোর্চার সভাপতি থাকবেন কিনা, তা নিয়ে টানাপড়েন চলছিলই। এরপর ফের বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন সৌমিত্র খাঁ। পদ্মশিবির সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন দুই আগেই মৌমিতা সাহা নামে এক নেত্রীকে যুবমোর্চার রাজ্য সম্পাদক নিয়োগ করেন তিনি। বুধবার তাঁকে যুবমোর্চার অফিশিয়াল হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের যুক্ত করারও নির্দেশ দেন। এখানেই সমস্যার সৃষ্টি হয়। সদ্য সংগঠনে আসা, অনভিজ্ঞ এক নেত্রীকে কেন রাজ্য সম্পাদক করা হল এই প্রশ্ন ওঠে? প্রশ্ন তোলেন রাজ্য যুবমোর্চার কর্মীদের একাংশ। যুবমোর্চার কর্মীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়ে, বিজেপির অফিস সেক্রেটারিকে সৌমিত্র খাঁ নির্দেশ দেন, তাঁকে যেন যুবমোর্চার অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন করা হয়। এরপরই তিনি তিনজনকে গ্রুপ থেকে বের করে দেন। এমনকি তাতেও যখন বিক্ষোভ থামল না, তখন সৌমিত্র খাঁ গ্রুপের পোস্টিং রাইটস শুধুমাত্র অ্যাডমিনের জন্য সীমাবদ্ধ করে দেন।

এদিন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে ই-মেল করে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি চিঠি পাঠানো হয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীকেও। এখানেই থেমে যাননি বিক্ষুব্ধ যুব মোর্চার কর্মীরা। তাঁরা মুরলিধর সেন লেনে বিজেপির রাজ্য দফতরে হাজির হয়ে সহ-সভাপতি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দলের অন্দরে বিষ্ণুপুরের সাংসদকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। চলতি মাসেই চলতি মাসেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন সৌমিত্র খাঁ। ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও সে সময় কম জলঘোলা হয়নি। কয়েক ঘণ্টার পর আবার ফেসবুকে পোস্ট দিয়েই সৌমিত্র জানান, ‘ইস্তফার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করছেন।’ এবার ফের বিতর্কে জড়ালেন তিনি। এবার খোদ যুব মোর্চার কর্মীদের একাংশই তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।