অমানবিক! নদিয়ার শান্তিপুরে ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় এক নাবালকের উপর অকথ্য অত্যাচার

অমানবিক! নদিয়ার শান্তিপুরে 'জয় শ্রীরাম' না বলায় এক নাবালকের উপর অকথ্য অত্যাচার
অমানবিক! নদিয়ার শান্তিপুরে 'জয় শ্রীরাম' না বলায় এক নাবালকের উপর অকথ্য অত্যাচার / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রতিবাদ জানানোর জন্য ভাষা কম পড়ে যাবে। এমনই অমানবিক এবং লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে। ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায়, এক নাবালকের উপর অকথ্য অত্যাচার চালান বিজেপির এক কর্মী। এই ঘটনার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই বছর দশেকের নাবালক।

সোমবার দুপুরে এই ঘটনাটি ঘটে নদিয়ার শান্তিপুর থানার ফুলিয়ায়। ঘটনার জেরে গুরুতর আহত ওই নাবালককে ফুলিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আবারও পরে তার অবস্থার অবনতি হলে, তাকে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিবাদে সরব হন এলাকার মানুষ। অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় মানুষজন। জাতীয় সড়ক অবরোধে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন তৃণমূলের কর্মী এবং সমর্থকরাও। বেশ কিছু সময় ধরে এই অবরোধ-বিক্ষোভ চলার পর, পুলিশের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে অবরোধ উঠে যায় এবং পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই পলাতক এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওই চায়ের দোকানদার। যদিও তার স্ত্রী ওই নাবালককে মারধরের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।

৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

পুলিশ ও স্থানীয় মানুষদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নাবালকের বাড়ি শান্তিপুরের ফুলিয়াপাড়ায়। তার মা নেই। বাবা ঠিকঠাক কাজকর্ম করেন না। ফলে এই ছোট্ট বয়সেই সে বাড়ি-বাড়ি ঘুরে খাবার জোগাড় করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে ফুলিয়াপাড়া এলাকায় একটি চায়ের দোকানে গিয়েছিল ওই নাবালক। সেই সময় চায়ের দোকানদার মহাদেব প্রামাণিক ওই নাবালককে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বলেন। মহাদেবের কথা মতো তা বলতে রাজি হয়নি ওই নাবালক। বরং সে বলে ফেলে, খেলা হবে। এতেই বেজায় রেগে যান ওই চায়ের দোকানদার, অভিযুক্ত মহাদেব। রাগের বশেই, মহাদেব ওই নাবালকের গায়ে গরম জল ঢেলে দেন। এরপর নাবালক মহাদেবকে ইট ছুড়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে, ওই চায়ের দোকানদার তাকে দৌড়ে ধরে ফেলেন এবং প্রচণ্ড মারধর করেন। এই মারের চোটে অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই নাবালক। সে বমি করতে শুরু করে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী মিঠু প্রামাণিক ওই এলাকার মহিলা মোর্চার মণ্ডল সভাপতি। এও জানা গিয়েছে যে, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। আর, মহাদেব নিজে বিজেপির একজন কার্যকর্তা বলে পরিচিত। অভিযুক্তের বাড়ি ফুলিয়ার কালীপুরে। অভিযুক্তের স্ত্রীর দাবি সম্পূর্ণ উল্টো। তাঁর দাবি, ওই নাবালক ছেলেটিই নাকি তাঁর স্বামীকে খেলা হবে বলতে বলেছিল। সেই জন্য তাঁর স্বামী রেগে গিয়ে, তাঁর গায়ে জল ঢেলে দেন। এরপরই ছেলেটি ইট ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন মহাদেব তাকে ধরে একটি চড় মেরেছেন। তবে, মহাদেবের স্ত্রীর দাবি, এরপর নাকি এলাকার কিছু মানুষ তাঁর স্বামীকে ধরেই মেরেছেন। তাঁর জন্য তিনি দোকান ফেলে বাড়ি চলে আসেন। পরে কিছু না জানিয়েই, কোথাও চলে গিয়েছেন। তবে, এত কিছু বললেও, এটাও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, মহাদেব প্রামাণিকের ওই নাবালককে মারধর করা উচিত হয়নি।

এই ঘটনার জেরে স্থানীয় মানুষের এই মুহূর্তে একটাই দাবি, অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে মহাদেব প্রামাণিককে। তবে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলেও জানা গিয়েছে। যুব তৃণমূলের রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি শুভঙ্কর মুখোপাধ্যায়, বেলগড়িয়া ১ অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি সুনীল বসাক, বেলগড়িয়া ২ পঞ্চায়েতের প্রধান দীপক মণ্ডল দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অশোক চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘সংবাদমাধ্যমে যা শুনেছি তা যদি সত্যি হয়, তাহলে ঘটনাটি নিন্দাজনক। আমাদের দল এই ধরনের কাজকে অনুমোদন করে না।’

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.