সপ্তম দফার ভোট শুরু বঙ্গে, নজরে পাঁচটি জেলার ৩৪টি আসন

সপ্তম দফার ভোট শুরু বঙ্গে, নজরে পাঁচটি জেলার ৩৪টি আসন
সপ্তম দফার ভোট শুরু বঙ্গে, নজরে পাঁচটি জেলার ৩৪টি আসন

পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়ে গেল বিধানসভা নির্বাচনের সপ্তম দফার ভোটগ্রহণ। সোমবার সকাল সাতটা থেকে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি জেলার মোট ৩৪টি আসনে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। তার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের ৬, পশ্চিম বর্ধমানের ৯, মালদহের ৬, মুর্শিদাবাদের ৯ ও কলকাতার ৪টি আসন। সপ্তম দফায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডি, কুমারগঞ্জ, বালুরঘাট, তপন, গঙ্গারামপুর ও হরিরামপুর বিধানসভা আসনের জন্য ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মালদহের হবিবপুর, গাজোল, চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, মালতিপুর ও রতুয়া আসনের জন্য চলছে ভোটদান।

এই দফায় মুর্শিদাবাদ জেলার ফরাক্কা, সুতি, রঘুনাথগঞ্জ, সাগরদিঘি, লালগোলা, ভগবানগোলা, রানিনগর, মুর্শিদাবাদ ও নবগ্রাম আসনে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরে প্রার্থী মৃত্যুর কারণে ভোটগ্রহণ হবে ১৬ মে। সপ্তম দফায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর, দুর্গাপুর পূর্ব, দুর্গাপুর পশ্চিম, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, আসানসোল দক্ষিণ, আসানসোল উত্তর, কুলটি বরাবনিতে। সপ্তম দফায় ভোটগ্রহণ চলছে কলকাতাতেও। কলকাতার কলকাতা বন্দর, ভবানীপুর, রাসবিহারী ও বালিগঞ্জ আসনে চলছে ভোটদান।

এদিন সকালেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ভবানীপুর বিধানসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মন্মথ নাথ নন্দন বয়েজ ও গার্লস স্কুলের পোলিং বুথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পর তিনি বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্প, তাঁর উন্নয়ন সমস্ত বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে, মমতাকেই ভোট দেবেন জনগণ। এই সমস্ত ইস্যুতেই এবারের ভোট। ১৯৬২ সাল থেকে আমি রাজনীতিতে রয়েছি। এই প্রথম নিজের জন্য ভোট দিলাম।” এদিন সকালেই ভোট দিয়েছেন রতুয়া আসনের বিজেপি প্রার্থী অভিষেক সিংহানিয়া। সামসি প্রাথমিক স্কুলে ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেছেন, “রতুয়া মালদহের সবথেকে পিছিয়ে পড়া নির্বাচনী কেন্দ্র। স্থানীয় বিধায়ক একজন পরিযায়ী বিধায়ক, তিনি শুধু ভোট চাইতেন আসেন। জনগণ বিজেপির পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

করোনা-বিধি, বিশেষ গুরুত্ব নির্বাচন কমিশনের। সপ্তম দফার ভোটে প্রতিটি বুথে নিরাপত্তার পাশাপাশি কোভিড বিধি পালনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই দফায় মোট বুথের সংখ্যা ১২,০৬৮। এর মধ্যে রয়েছে ৯১২৪টি প্রধান এবং ২৯৪৪টি অতিরিক্ত বুথ। করোনা সংক্রমণের জন্য এই দফায় বিশেষ কয়েকটি ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোট গ্রহণের পূর্বে সমগ্র বুথ স্যানিটাইজেশন করা হয়েছে। বাদ যায়নি ইভিএম, ভিভিপ্যাটও। বুথের মধ্যে যাঁরা আছেন সকলের মাস্ক ও গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক।

সপ্তম দফার ভোটে যেমন রয়েছেন রুপোলি পর্দা থেকে রাজনীতিতে পা দেওয়া তারকা প্রার্থী, তেমনই রয়েছেন পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ থেকে একাধিক মন্ত্রীও। সপ্তম দফায় ৪ জন মন্ত্রীর ভাগ্য পরীক্ষা হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম ফিরহাদ হাকিম। কলকাতা বন্দর আসনের তৃণমূল প্রার্থী হলেন ফিরহাদ। রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের ভাগ্যপরীক্ষা হবে বালিগঞ্জ বিধানসভা আসনে। এই দফায় ভাগ্যপরীক্ষা রাজ্যের বিদ্যুত্‍ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়েরও। এ বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কেন্দ্র ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামের প্রার্থী হওয়ায় সেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দাঁড় করিয়েছে তৃণমূল। ভবানীপুরে শোভনদেবের প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির তারকা প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ।

আসানসোল উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী হলেন রাজ্যের আইন ও শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক। ২০১১ থেকে আসানসোল উত্তরেরই বিধায়ক মলয়। এ বার তৃতীয় বারের জন্য লড়ছেন মল়য়। কলকাতার ৮৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৪ বারের কাউন্সিলর তথা মেয়র পরিষদ দেবাশিস কুমারকে এ বার রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এ বারই প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তিনি। এই কেন্দ্রে তাঁকে টক্কর দেবেন বিজেপি প্রার্থী সুব্রত সাহা। আসানসোল দক্ষিণ আসনে এবার জোর টক্কর হচ্ছে দুই তারকা প্রার্থীর মধ্যে। এই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হলেন সায়নী ঘোষ এবং বিজেপির প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল। সপ্তম দফায় অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন-বালুরঘাটের বিজেপি প্রার্থী অশোক লাহিড়ী, জামুড়িয়ায় সিপিএম প্রার্থী ঐশী ঘোষ, পাণ্ডবেশ্বরে বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তিওয়ারি, রানিগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, বালিগঞ্জে সিপিএম প্রার্থী ডাঃ ফুয়াদ হালিম এবং ভগবানগোলার তৃণমূল প্রার্থী ইদ্রিস আলি।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.