বিক্ষোভরত কৃষকদের পিষল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলের গাড়ি! উত্তরপ্রদেশ উত্তাল, বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৮

বিক্ষোভরত কৃষকদের পিষল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলের গাড়ি! উত্তরপ্রদেশ উত্তাল, বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৮
বিক্ষোভরত কৃষকদের পিষল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলের গাড়ি! উত্তরপ্রদেশ উত্তাল, বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৮

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ এই মুহূর্তে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরের খে্রিতে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এদিন সকাল থেকেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন কৃষকরা কেন্দ্রের নয়া কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের বিরোধিতায়। এদিন সকালে উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য ও কেন্দ্রীয় অজয় কুমার মিশ্রের আসা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন কৃষকরা।

জানা গিয়েছে, ওই কৃষকরা কেন্দ্রের বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন টিকুনিয়া নামের এক স্থানে। সেখানেই এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদের আসার কথা ছিল। সেই সময় সেখানে একটি কুস্তি প্রতিযোগিতা চলছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আশিস মিশ্র। তিনি উপমুখ্যমন্ত্রীকে আনতে যাচ্ছিলেন। কৃষকদের পরিকল্পনা ছিল, তাঁরা কালো পতাকা দেখাবেন। আশিস মিশ্র সেখানে পৌঁছালে, তাঁর সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয় বিক্ষোভকারীদের।

এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি আচমকা গাড়ি চালিয়ে দেন কৃষকদের উপর দিয়ে। ‘ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন’-এর দাবি, এই ঘটনায় দুই নয়, তিনজনের কৃষকের ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়েছে। গাড়ির ধাক্কায় কৃষকদের ছিটকে পড়ার পরই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা মন্ত্রীপুত্রের গাড়ি-সহ তিনটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন। গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সূত্রের তরফে দাবি করা হয়েছে, যারা গাড়িতে ছিল তাঁদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিক্ষোভ প্রদর্শনরত কৃষকরা দুটি গাড়িকে জোর করে আটকে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেখানে থাকা বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পাশের চাষের ক্ষেতে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। আবার গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে। এদিকে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ৮ জন। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় কুমার মিশ্র তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ ইতিমধ্যেই অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে সেখানে যায়নি।

এই ঘটনায় কৃষকদের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর নির্দেশেই ঘটনাস্থলেই পাঠান বিশাল পুলিশবাহিনী। ঘটনার সঠিক তদন্ত হবে বলেও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, যোগীরাজ্যের এই ঘটনায় ইতিমধ্যে দেশব্যাপী শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী খেরির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। নরেন্দ্র মোদীর সময়ে এটা জাতীয় লজ্জা বলেও তোপ দেগে বলা হয়েছে, আমাদের কৃষকদের এই দিনও দেখতে হচ্ছে! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে সরব হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করছে, আমরা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়ব।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশে প্রতিনিধি দল পাঠাবে তৃণমূল কংগ্রেস। এই দলে থাকবেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, দোলা সেন, পারমিতা মণ্ডল, আবির রঞ্জন বিশ্বাস এবং সুস্মিতা দেব। তাঁরা লখিমপুরের খেরিতে কৃষক পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন।

 

ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। টুইটারে পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘কৃষি আইনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিরোধিতা করছিলেন কৃষকরা। তখনই বিজেপি সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ছেলে গাড়ি দিয়ে তাঁদের পিষে দিয়ে এক অমানবিক ও নিষ্ঠুর কাণ্ড ঘটান। উত্তরপ্রদেশ আর বিজেপির এই অত্যাচার সহ্য করবে না। এইভাবে চলতে থাকলে বিজেপি আর গাড়ি চড়তে পারবে না, নামতেও পারবে না।’