মর্মান্তিক পরিণতি! কার্টুন দেখে, অনুকরণ করতে গিয়ে গলায় ফাঁস লেগে মৃত্যু শিশুর

মর্মান্তিক পরিণতি! কার্টুন দেখে, অনুকরণ করতে গিয়ে গলায় ফাঁস লেগে মৃত্যু শিশুর
মর্মান্তিক পরিণতি! কার্টুন দেখে, অনুকরণ করতে গিয়ে গলায় ফাঁস লেগে মৃত্যু শিশুর / প্রতীকী ছবি

নিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ টিভিতে চলা কার্টুন দেখে, অনুকরণ করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল। গলায় ফাঁস লেগে, মৃত্যু হল এক শিশুর। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার নাকাশিপাড়ার গোটপাড়ায়।

মৃত শিশুর নাম সামিরুল শেখ। ক্লাস টু-এর ছাত্র সামিরুল। মায়ের কাজের ব্যস্ততার সুযোগে গলায় ফাঁস লেগে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত শিশুর মামা জানিয়েছেন যে, কার্টুন দেখে, সেটা অনুকরণ করতে গিয়েই চরম বিপদ ঘটে যায় শিশুটির সঙ্গে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নাকাশিপাড়া থানার পুলিশ।

জানা গিয়েছে, সামিরুল শেখ কার্টুন দেখতে খুবই ভালবাসত। দিনভর কার্টুনে মেতে থাকত। সামিরুলের এক ভাই রয়েছে। তার বাবা পেশায় চাষি। মা গৃহবধূ। সোমবারও সামিরুলের মা ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিল। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সকাল এগারোটা নাগাদ ঘরে বসে টিভিতে কার্টুন দেখছিল সে। পরিবারের দাবি, সাধারণভাবে কার্টুন দেখার সময় চিৎকার বা হাসাহাসি করত সামিরুল। কিন্তু এদিন কার্টুনের শব্দ পেলেও, সামিরুলের কোনও আওয়াজ পাওয়া যায়নি। অনেকক্ষণ শব্দ না পেয়ে, সামিরুলের মা ঘরে ঢুকে দেখেন, টিভি চলছে কিন্তু গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে ছেলে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বেথুয়াডহরি গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

উল্লেখ্য, কার্টুন বাচ্চাদের খুবই প্রিয়, তা সে টেলিভিশনের পর্দাতেই হোক বা স্মার্টফোনে, অনেক শিশুকেই কার্টুনে বুঁদ হয়ে বসে থাকতে দেখা যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। মা-বাবা বকাঝকা করলেও, অনেক সময়ই শিশুর বায়নার সামনে তাঁদের নতিস্বীকারও করতে হয়। কিন্তু এই কার্টুনেই যে ভয়ঙ্কর বিপদ লুকিয়ে রয়েছে, তা সম্ভবত কখনও স্বপ্নেও কল্পনাও করতে পারেনি নাকাশিপাড়ার গোটাপাড়া গ্রামের মৃত ছোট্ট সামিরুলের বাবা-মা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এটাই প্রথমবার নয়, এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। এর আগে বিভিন্ন সিরিয়ালের দৃশ্য অনুকরণ করতে গিয়ে, শিশুর মৃত্যুর একাধিক মর্মান্তিক খবর সামনে এসেছে। এদিকে নাকাশিপাড়ার শিশুর মৃত্যু আবারও একবার তুলে দিয়েছে একাধিক প্রশ্ন। সময় থাকতে যদি একটু সতর্ক হওয়া যেত! আজ তাহলে নাকাশিপাড়ার সামিরুলের মা-বাবাকে তাঁদের সন্তানকে হারাতে হত না। ক্লাস টু-এর ছোট্ট শিশুর এ ধরনের মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই সমগ্র এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।