‘ভবিষ্যতে গোটা দেশেই বিজেপিকে রুখে দেবেন মমতা’, তৃণমূলে যোগ দিয়ে, দাবি অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের

‘ভবিষ্যতে গোটা দেশেই বিজেপিকে রুখে দেবেন মমতা’, তৃণমূলে যোগ দিয়ে, দাবি অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের
‘ভবিষ্যতে গোটা দেশেই বিজেপিকে রুখে দেবেন মমতা’, তৃণমূলে যোগ দিয়ে, দাবি অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পুত্র প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। এদিন তৃণমূল ভবনে গিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে শাসকদলে যোগ দেন অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। জঙ্গিপুরের দু’বারের প্রাক্তন সাংসদ এবং নলহাটির প্রাক্তন বিধায়ক অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের তৃণমূলে যোগদান রাজ্য কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা বলা যায়। শুধু রাজ্য স্তরে নয়, যেহেতু অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পুত্র, তাই সর্বভারতীয় স্তরেও কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে পড়ল কংগ্রেস নিঃসন্দেহে। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের তৃণমূলে যোগদান প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাধ্যমেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন।

এদিন প্রণব পুত্র অভিজিৎ তৃণমূলে যোগদান করলেও, পুরনো দল নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। পাশাপাশি ২০১১ সালে নলহাটি থেকে কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক হওয়ার কৃতিত্ব মমতাকেই দিয়েছেন তিনি। তাঁর আশা, এ রাজ্যের সাম্প্রতিকতম বিধানসভা নির্বাচনের মতোই ভবিষ্যতে হয়তো গোটা দেশেই বিজেপিকে রুখে দেবেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ধন্যবাদ জানাবো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ আজকে তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগদান করলাম৷ এক কংগ্রেস থেকে আর এক কংগ্রেসে এলাম৷ ২০১১ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে যখন কংগ্রেসে যোগদান করেছিলাম, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই বাম বিরোধী হাওয়া উঠেছিল৷ সেই হাওয়াতে ভর করেই আমি নলহাটি থেকে জয়ী হয়েছিলাম৷ এতে আমার নিজের কোনও কৃতিত্ব ছিল না৷ মমতা দিদি রাজ্যে বিজেপি-র মতো সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানকে রুখে দিয়েছেন৷ পশ্চিমবঙ্গে তিনি যেভাবে বিজেপি-কে রুখতে পেরেছেন, ভবিষ্যতে তাঁর নেতৃত্বে এবং আরও অনেকের সহযোগিতা নিয়ে হয়তো গোটা ভারতবর্ষে তা সম্ভব হবে৷’

এদিন তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে এও বলেন যে, এটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তিনি জানান, তাঁর বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি তাঁকে কোনোদিন কংগ্রেসে যোগ দেওয়া বা না দেওয়া সম্পর্কে কিছু বলেছিলেন না। সেটাও তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল। এটাও তাই। পুরনো দল সম্পর্কে সরাসরি কিছু না বললেও, অভিযোগের সুর ছিল তাঁর কথায়। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন সবাই প্রাক্তন। কংগ্রেসের কোনও পদেই আমাকে রাখা হয়নি। শুধু প্রাথমিক সদস্য হিসেবেই ছিলাম। সেটারও নতুন করে পুনর্নবীকরণ হয়নি৷ ফলে অনুগত সৈনিক হিসেবেই তৃণমূলে যোগদান করলাম৷ দল যা নির্দেশ দেবে, তা মেনে চলব৷’ পাশাপাশি তিনিও এও স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি পদের লোভে তৃণমূলে আসেননি। সেটা হলে, আগেই যোগ দিতে পারতেন, এখন না। অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ‘যেহেতু নিজেকে কর্মক্ষম মনে করি, যেভাবে আমাকে দল ব্যবহার করবে সেই মতো কাজ করব৷’

অন্যদিকে, এদিন অভিজিতের যোগদান উপলক্ষ্যে প্রণব মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে, দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘তিনি শুধু ভারতবর্ষের রাষ্ট্রপতি ছিলেন না, আমাদের পথ প্রদর্শক ছিলেন৷ আপদে, বিপদে আমাদের পরামর্শ দিতেন প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ তাঁর সুপুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়৷ আমরা আশা করব, তাঁর নিজের এবং পারিবারিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা, তা বিজেপি মুক্ত ভারতবর্ষ তৈরি করার যে সংগ্রাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালিয়ে যাচ্ছেন, তিনি তাতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে সেই লড়াইকে আরও মজবুত করবেন আগামিদিনে৷’ উল্লেখ্য, এদিন তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেনে দলের তরফে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।