‘ও জীবন ছাইড়া যাস না মোরে’, গান গেয়েই ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যার চেষ্টা অভিনেতার

'ও জীবন ছাইড়া যাস না মোরে', গান গেয়েই ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যার চেষ্টা অভিনেতার
'ও জীবন ছাইড়া যাস না মোরে', গান গেয়েই ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যার চেষ্টা অভিনেতার

করোনা, লকডাউন, কর্মহীনতা, অবসাদ- বর্তমান পরিস্থিতিতে এই শব্দগুলি যেন একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে। প্রত্যেকটা শব্দই একে অন্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত হয়ে পড়েছে। আর এর থেকে বাঁচতেই আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যাই হয়ে উঠছে একমাত্র বাঁচার উপায়। হয়তো ঠিক সেই কারণেই বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করলেন অভিনেতা শুভ চক্রবর্তী। তবে পুলিশি তৎপরতায় প্রাণে বাঁচানো গিয়েছে এই উঠতি অভিনেতাকে।

লকডাউনে বন্ধ রয়েছে শুটিংয়ের কাজ। তাই দীর্ঘদিন থেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বছর ৩১-এর অভিনেতা শুভ চক্রবর্তী। আর সেই থেকেই তাকে গ্রাস করেছে মানসিক অবসাদ। এদিন হঠাৎ করে ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে গত এক বছর ধরে হাতে কাজ নেই বলেও যে চরম দূর্দশার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন সেকথাও শেয়ার করেন নেটিজেনদের সঙ্গে।

এদিন লাইভে এসে অভিনেতা জানান, মঙ্গলচন্ডী, মনসার মতো একাধিক বাংলা ধারাবাহিকে কাজ করেছেন তিনি। কিছুদিন আগে পুলিশ ফাইল অভিনয় করেছেন টুকটাক। কিন্তু তাতে যা টাকা আয় হয়েছে তা দিয়ে যাতায়াতের খরচ ওঠেনি। এরপরে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “লোকে যে বলত আমি খুব ভালো অভিনয় করি তাহলে কেন কাজ পাই না? তাহলে হয়তো অভিনয়টাও জানিনা। এভাবে বেঁচে থেকে কি লাভ?” এর পরেই সুশান্ত সিং রাজপুতের তুলনা টানেন তিনি। বলেন, “এই কারণেই বোধহয় সুশান্তের মত ছেলেরা সুইসাইড করে”।

এদিকে এর মধ্যেই লাইভে এই সমস্ত কথা বার্তা চালাতে চালাতেই ঘুমের ওষুধ খেতে শুরু করেন তিনি। বলতে থাকেন, “আমি বাঁচতে চাই না। সব ওষুধ খেয়ে নিচ্ছি”। এদিকে তার এই ভিডিও দেখেই তার ফ্রেন্ডলিস্টের একজন তৎক্ষণাৎ খবর দেন থানায়। এরপর পুলিশ ফেসবুকে দেওয়া তার তথ্য থেকে ঠিকানা খুঁজে বের করে তার বাড়িতে পৌঁছয়। উদ্ধার করে ওই অভিনেতা। সবশেষে পুলিশি তৎপরতায় বেঁচে যান তিনি। এদিকে বাড়িতে তার বৃদ্ধা মা এবং দিদি থাকলেও অভিনেতার এই কান্ডর কেউই কিছু টের পাননি।