রবিনসন স্ট্রিটের পর নিউ আলিপুর, ১৪ দিন ধরে ঘরের বিছানায় পড়ে পচাগলা যুবতীর দেহ

Image source: Google

বিশেষ প্রতিবেদনঃ রবিনসন স্ট্রিট ও বেহালার পর এবার ঠিক সেরকমই এক ঘটনার সাক্ষি থাকল নিউ আলিপুর। বাইরে থেকে বন্ধ ফ্ল্যাটের দরজা। ভেতরে বিছানার ওপর পড়ে রয়েছে যুবতীর পচাগলা দেন। সেখানেই রয়েছে মৃত ওই যুবতীর মায়ের লেখা একই সুইসাইড নোট। মেয়েকে ঘরের মধ্যে রেখেই ট্রেন ধরে কাটিহারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন মা। কিন্তু অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাওড়া স্টেশনে দেখে হাওড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করে জিআরপি। একইসাথে যুবতির মৃত্যু নিয়েও দানা বাঁধে রহস্য। আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত খুন! সেই প্রশ্নের উত্তির খুজতেই হাসপাতালে গিয়ে যুবতীর মাকে জেরা করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ দিন ধরে গুডেন ধানানি ওরফে কবির পচাগলা দেহ পড়ে ছিল ঘরের বিছানায়। সোমবার বিজয় খাটনানি তার বৌদির থেকে ফোন পেয়ে জানতে পারেন তাঁর মেয়ে গুডেন গত ২৩ ডিসেম্বর আত্মহত্যা করেন। সেদিন থেকেই তাঁর দেহ বারীতেই রয়েছে। মেয়ের এমন করুন পরিনতির বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে কাউকে কিছু না বলেই তিনি বাড়ির দরজায় তালা দিয়ে বেরিয়ে আসেন।

আত্মঘাতী ওই যুবতীর আদি বাড়ি কাটিহারে। সেখান থেকেই ওই যুবতী বি কম পাস করেন। তাঁর পর চাকরি করেন। তবে পরে চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি টিউশন পড়াতেন। তিনি ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ছিলেন। এরপরেই শুরু হয় তদন্ত। পুলিশ নিউ আলিপুর সাহাপুর কলোনিতে ওই যুবতীর বারীতে যান। সেখানে দিয়েই দেখেন তাঁর পচাগলা দেহ। পাশে একটি সুইসাইড নোটও পায় পুলিশ। যা সম্ভবত তাঁর মায়ের লেখা। চিঠিতে লেখা, “আমি ও আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে চলছি।“ চিঠিতে আত্মহত্যার কয়েকটি কারনও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি রান্নাঘরে একটি দড়ির ফাঁস ও ঝুলতে দেখা যায়। এরপরেই যুবতীর মায়ের দিকে ঘুরে যায় সন্দেহের তীর।

পুলিশের কথায়, হয়ত একইসাথে দুজন আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ের আত্মহত্যার পর নিজে তা করে উঠতে পারেননি ঐ প্রৌঢ়া। আবার প্রশ্ন উঠছে ১৪ দিন কি মেয়ের মৃতদেহ আগলে ছিলেন মা? নাকি মেয়ের আত্মহত্যার পেছনে মায়েরই হাত রয়েছে? তবে প্রতিবেশীদের কথায়, ৩১ ডিসেম্বর থেকেই তাঁদের ফ্ল্যাটে তালা দেওয়া ছিল। এমনকি ওই যুবতির মাকেও দেখা যায়নি। তবে ঘর থেকে পচা গন্ধ পেয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু এতদিন ধরে মা কোথায় ছিলেন তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। সমগ্র ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে নিউ আলিপুর থেনের পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ  উত্তরপ্রদেশে দুই সন্তান কে মেরে আত্মঘাতী দম্পতি

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.